মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষঙ্গ এক মাস রোজা রাখার পর যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে শনিবার ১৮ জুলাই সারা বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়েছে। এটি মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জামাতে শরিক হন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা। এ ছাড়া শরিক হন মুসলিম দেশগুলোর কূটনীতিকেরা।
ঈদের জামাতে দেশ ও দেশের জনগণের শান্তি, উন্নয়ন ও কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নামাজের পর মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছাবিনিময় করেন।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমেও ঈদের কয়েকটি জামাত হয়। জাতীয় ঈদগাহ ও জাতীয় মসজিদে নারীদের নামাজের জন্য ছিল বিশেষ ব্যবস্থা।
প্রতিবারের মতো এবারও দেশের ঈদুল ফিতরের বৃহত্তম জামাতের আয়োজন করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে।
‘সেমাইয়ের ঈদ’ নামে প্রচলিত এই ঈদে নানা রকম সেমাইয়ের সঙ্গে থাকছে ফিরনি, পিঠা, পায়েস, পোলাও-কোরমাসহ সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। বিশেষ আয়োজন থেকে বাদ যাবেন না রোগী, বন্দী বা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত কর্মীরাও।
ঈদ উপলক্ষে দেশের হাসপাতাল, এতিমখানা ও বন্দীদের জন্য কারাগারগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। সরকারি শিশু সদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে কল্যাণকেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণকেন্দ্রেও রয়েছে বিশেষ খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা।
ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ নগরবাসী ঢাকার বাইরে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকা প্রায় ফাঁকা। তাই নগরবাসীকে ঈদের দিন স্বাচ্ছন্দ্যে রাস্তায় চলাচল করতে দেখা গেছে।
ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওর ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা


