বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সরকারে গতি আনতেই মন্ত্রিসভায় রদবদল: শেখ হাসিনা

pm-TVসরকারের কাজে গতি আনতেই মন্ত্রিসভায় রদবদল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার ঈদের সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের ন্যায় পদক্ষেপের কারণে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ও আনন্দের সঙ্গে ঈদ করতে পারছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, পুত্রবধূ ক্রিস্টিনা ওভারমায়ার, মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ ও জামাতা খন্দকার মাসরুর হোসেন, নাতি নাতনিসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

শুরুতে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় করেন শেখ হাসিনা। এ সময় দলের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় দল ও সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, আব্দুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও দীপু মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ও সহযোগী সংগঠনের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা, এতিম-দুস্থ, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় করেন।

সর্বস্তরের নাগরিক এবং বিচারপতি ও বূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশের সব জনগণকে ‘ঈদ মোবারক’ জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “মানুষ ও আল্লাহর কাছে দোয়া চাই- বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, তা যেন অব্যাহত থাকে।

“বাংলাদেশ যেন বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়। বাঙালি জাতি বিশ্বসভায় যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে”

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন জনগণের কল্যাণে কাজ করে। নিয়ত ভালো থাকলে ফল যে পাওয়া যায়, তাও আজ প্রমাণিত।”

বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা আমাদের বাজেট চারগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা এখন উন্নয়নের রোল মডেল।

“সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। প্রবৃদ্ধি অর্জন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের কাছে সমাদৃত।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পার্লামেন্ট সিস্টেম অব ডেমোক্রেসিতে এটা একটা সাধারণ কাজ। যে কোনো সময় মন্ত্রিসভায় চেইঞ্জ হতে পারে। মন্ত্রী পরিবর্তন হতে পারে। মন্ত্রীদের পরিবর্তন হওয়া, মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হচ্ছে সরকার প্রধানের এখতিয়ার। কাজেই আমরা সময়ে সময়ে এই ধরনের পরিবর্তন আনতে পারি।

“মাঝে মাঝে পরিবর্তন আনলে একটু গতিশীলতা বাড়ে। মানুষের আগ্রহও বাড়ে।”

এ সময় হাসতে হাসতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই যে একটু পরিবর্তন হল, মিডিয়াও একটু লেখার সুযোগ পেল। মিডিয়াকেও একটু লেখার সুযোগ করে দিলাম। এই জন্য আমাদেরকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।”

“কাজেই এটা একটা সাধারণ ব্যাপার। এটা সব সময়ে হয়, সব দেশেই হয়। এটা নিয়ে বিরূপ কথা বলার কোনো সুযোগ নাই।”

গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। এই ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনার মধ্যে এক সপ্তাহের মাথায় আশরাফকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

এরমধ্যে নুরুল ইসলাম বিএসসিকে মন্ত্রী এবং তারানা হালিম ও নুরুজ্জামান আহমেদকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। নুরুল ইসলাম বিএসসিকে দেওয়া হয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব; স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আসার আগে যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

মন্ত্রিসভায় এই রদবদল নিয়ে আলোচনায় অতীতের দুটি ঘটনা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “একটি কথা বলি, আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার নেতৃত্বে যখন ক্ষমতায়, উনি কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে দিয়ে কামরুজ্জামান সাহেবকে সভাপতি করেছিলেন। উনাকে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। তিনি পার্টির প্রেসিডেন্ট হিসাবে পার্টি চালাতেন, কিন্তু মন্ত্রীর মর্যাদায় ছিলেন। কাজেই এই পদ্ধতিও ছিল।

“বঙ্গবন্ধু ’৫৭ সালে ‍মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। সংগঠনটাকে গড়ে তোলার জন্য পার্টির সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন।

“বাংলাদেশে একমাত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুই পার্টির সাধারণ সম্পাদকের পদ গ্রহণ করে দলকে সুসংগঠিত করতে মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন। এটা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের হয়, এটা নিয়ে এত লেখালেখির সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।”

আরও পড়ুন