বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ার বাংলাদেশি নিয়োগ: প্রতিনিধি দল আসছে ২৯ জুলাই

malaysianবাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে ২৯ জুলাই তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসছে মালয়েশিয়ার ছয় সদস্যের টেকনিক্যাল প্রতিনিধি দল।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ওহাব বিন মোহাম্মদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের ওই প্রতিনিধি দল ৩১ জুলাই পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করবে।

বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া সফর করে। ওই সফরের সময় মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জাহিদ হামিদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মালয়শিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জি টু জি পদ্ধতি ছাড়াও বাণিজ্যকভাবে (বি টু বি) আগামী তিন বছরে ১৫ লাখ কর্মী নেবেন তারা।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের বাকি সময়ে পাঁচ লাখসহ আগামী তিন বছরে এই ১৫ লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় যাবে। এ জন্য উভয় দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি সই হবে। তবে এর আগে মালয়েশিয়ান টেকনিক্যাল প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবে।

বর্তমানে জি টু জি বা সরকারিভাবে শুধুমাত্র প্ল্যান্টেশন বা গাছ রোপণের কাজে মালয়েশিয়ায় লোক যাচ্ছে। তবে তা খুবই নগণ্য। ২০০৯ সালের পর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণে উভয় দেশের মধ্যে জি টু জি (সরকার টু সরকার) চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আলোকে ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। তবে এ সংখ্যা খুবই নগণ্য।

চুক্তির পর সদ্য সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, জি টু জি পদ্ধতিতে বছরে এক লাখ কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়। কিন্তু গত দুই বছরেরও বেশি সময়ে আট হাজারের মতো কর্মী গেছে দেশটিতে। জি টু জি ফ্লপ করায় বিভিন্ন মহল থেকে ক্ষোভ ও দাবি তোলা হয় জি টু জি চুক্তি বাতিল করে মালয়েশিয়ায় প্ল্যান্টেশনসহ অন্যান্য খাতে লোক পাঠানোর জন্য।

এরই মধ্যে মালয়েশিয়ায় সফরে যায় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল। সরকারের উচ্চপদস্থদের মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটিতে জি টু জির পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে (বি টু বি) বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নেওয়ার ঘোষণা আসে, যা সর্বমহলে সাড়া জাগায়।

২৯ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব খোন্দকার ইফতেখার হায়দার জানান, বিপুলসংখ্যক কর্মী কোন পদ্ধতিতে যাবে, বাছাই প্রক্রিয়া কেমন হবে, সামগ্রিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিনিধি দল আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবে।

বেসরকারি জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রা সভাপতি আবুল বাশার বলেন, ‘২৯ জুলাই মালয়েশিয়ান প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে আসছে। কীভাবে কর্মী যাবে, কোন পদ্ধতিতে যাবে, বেতন-ভাতা বা সুযোগ-সুবিধা কী হবে— এ সব বিষয় নিয়ে প্রতিনিধি দল আলোচনা করবে।’

তিনি বলেন, এটুকু বলতে পারি, বাংলাদেশ থেকে যারা যাবেন তাদের সেখানে নিরাপত্তা, ইন্স্যুরেন্সসহ নানা সুবিধা থাকবে। অভ্যন্তরীণ খরচ বাদে কর্মীদের কোনো খরচ হবে না। আমরা (রিক্রুটিং এজেন্সি) মালয়েশিয়ান নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কমিশন পাব মাত্র।’

২০০৯ সালের পর সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ার মতো বাংলাদেশের বড় শ্রমবাজারগুলো বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি ঢাকঢোল পিটিয়ে সৌদি আরবের বাজার উন্মুক্ত হলেও শুধুমাত্র নারী গৃহশ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে তারা। ২০১৩ সাল থেকে শ্লথগতিতে জি টু জি পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাচ্ছিল। এ নিয়ে হতাশা ছিল মন্ত্রণালয়েও। ক্ষোভ ছিল বেসরকারি জনশক্তি রফতানিকারকদের। ঠিক সেই সময় শ্রমবাজার নিয়ে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খোলার অপেক্ষায় মালয়েশিয়া।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *