বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পে স্কেল বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাচ্ছে: অসন্তোষ বাড়ছে

Government-BDস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ার কারণে সৃষ্ট জটিলতায় পে-স্কেল বাস্তবায়নে সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে পিছিয়ে যাচ্ছে পে-স্কেল বাস্তবায়ন। ফলে নতুন স্কেলে বেতন পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

পে স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাদের ব্যাপারে সচিব কমিটির প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন নিম্নস্তরের সরকারি চাকরিজীবীরা। এ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীও। সচিব কমিটির এ সিদ্ধান্তকে মর্যাদা হানিকর উল্লেখ করে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা। এ নিয়ে জনপ্রশাসনে অসন্তোষের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছে সরকারের একটি সংস্থাও।

সূত্রমতে, পে-স্কেলে বড় কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে পে-কমিশন। সচিব কমিটিও তা আমলে নিয়ে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের পক্ষে মত দেয়। তবে সিলেকশন গ্রেড বাতিলের তীব্র বিরোধিতা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা। এটা তাদের জন্য মর্যাদা হানিকর বলে মনে করছেন তারা। উদ্বেগের বিষয়টি তারা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে জানিয়েছেনও। এ কারণে পে-স্কেল বাস্তবায়নে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ প্রসঙ্গে বলেন, জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হচ্ছে। তবে এটি বাস্তবায়ন হতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর লেগে যেতে পারে। সচিব কমিটির সুপারিশে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। তবে এটি চূড়ান্ত হতে আরো দুই মাস লাগবে।

এদিকে জনপ্রশাসনে অসন্তোষের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। টাইম স্কেলের বিপরীতে চক্রবৃদ্ধি হারে সাড়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে সিলেকশন গ্রেড বাদ দিয়ে সম্মানজনক কোনো বিকল্প খুঁজে পাচ্ছে না মন্ত্রণালয়। তাই সিলেকশন গ্রেড রেখে দেয়া যায় কিনা, সেটিও ভেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড ছাড়াই পে-স্কেল বাস্তবায়নের চিন্তা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের সিদ্ধান্ত তাদের আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ পেশাজীবীরা। তারা বলছেন, কেবল অর্থ দিয়ে চাকরিজীবীদের সন্তুষ্ট করা যাবে না। কারণ সিলেকশন গ্রেড চাকরিজীবীদের মর্যাদা বাড়ায়। তাই সিলেকশন গ্রেডের বিকল্প কেবল অর্থ হতে পারে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, বেতন কাঠামো থেকে সিলেকশন গ্রেড বাতিলের সিদ্ধান্ত শিক্ষক সমাজের জন্য মর্যাদা হানিকর। সরকার চূড়ান্তভাবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে কর্মবিরতি পালন করা হবে। পাশাপাশি এটি বাতিলের জন্য তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

পে-স্কেল নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি এরই মধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে। টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দিয়ে পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আরো বড় ধরনের অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে প্রতিবেদন দিয়েছে সরকারেরই একটি সংস্থা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পে-স্কেল বাস্তবায়নে বিলম্বের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পে-স্কেল বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে চাকরিজীবীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে জানান বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নাফ। তিনি বলেন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড ছাড়া পে-স্কেল চাকরিজীবীদের কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না। এটি তারা মেনেও নেবেন না। কারণ পে-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তাদের আন্দোলনের ফসল।

সিলেকশন গ্রেড বাতিল হলে রাজপথে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প থাকবে না বলে জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার। তিনি বলেন, সিলেকশন গ্রেড বাতিল হলে তা শিক্ষকদের মর্যাদায় আঘাত করা হবে। তখন রাজপথে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প থাকবে না। কেবল বিশ্ববিদ্যালয় নয়; দেশের সব শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষায় সরকারের মনোযোগী হওয়া উচিত।

২০১৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে চেয়ারম্যান করে ছয় মাস মেয়াদি ১৭ সদস্যের ‘বেতন ও চাকরি কমিশন ২০১৩’ গঠন করা হয়।

পরে কমিশনের মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানো হয়। এর পর গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর মেয়াদ আরো এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়। গত বছরের ২১ ডিসেম্বর পে-কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। তাতে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১ লাখ ও সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়। প্রতিবেদনে জ্যেষ্ঠ সচিবদের মূল বেতন মাসে ৮৮ হাজার এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের বেতন মাসে ১ লাখ টাকা করার সুপারিশ করা হয়। এর পর সচিব কমিটি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৯০ হাজার ও সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণ করে।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *