বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমছেই: বাংলাদেশে উচ্চ মুনাফায় বিক্রি

Petrol+fuel+XXXবিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসভিত্তিক এ আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আইইএ বলেছে, কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য বেশ স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ বেশি হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম ২০১৬ সাল পর্যন্ত পড়তির দিকে থাকবে।

সংস্থাটির মতে, চলতি ২০১৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বিশ্ববাজারে অতিমাত্রায় তেল সরবরাহ হয়েছিল; যা এখনো অব্যাহত আছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে কমতে শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বনিম্ন ৪৯ মার্কিন ডলারে নেমে যায়; যা গত বছরের জুনে ছিল ১১৫ ডলার। তবে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে ৫৯ ডলারে।

এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রবণতা এক বছর ধরে চললেও বাংলাদেশে এখনো পণ্যটির দাম কমানো হয়নি।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বিশ্বব্যাংক গত এপ্রিলে এক প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি করে বিপিসি বেশ ভালো মুনাফা করছে। প্রতি লিটার অকটেনে ৩৫ টাকা ৪৯ পয়সা, কেরোসিনে ১৩ টাকা ৭৭ পয়সা, জেট অয়েলে ১৮ টাকা ৭৫ পয়সা, ডিজেলে (এইচএসডি) ১৪ টাকা ৬৮ পয়সা ও ফার্নেস তেলে ১৯ টাকা ৫৭ পয়সা মুনাফা হচ্ছে বিপিসির।

জ্বালানি তেলের দাম না কমানোর সরকারি সিদ্ধান্ত সমর্থন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ‘আগের ভর্তুকির কারণে বিপিসির প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার লোকসান সমন্বয় করতে হলে আরও কিছু সময় দরকার। তাই এ বছর সরকার জ্বালানি তেলের দাম কমাবে বলে মনে হয় না।’

জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সংগতি রেখে গ্যাসের দামও সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন