বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম টেস্টে দর্শকদের বর্ণবাদী আচরণ, হতবাক ক্রিকেট বিশ্ব

CTG-Viewerক্রিকেটাররা যখন দেশকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছেন, তখন আরও একবার দর্শকদের আচরণ বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কালিমালিপ্ত করল। দর্শকরা এবার দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের ‘কালো মানুষ’ (ব্ল্যাক) বলে অভিহিত করে স্লোগান দিয়েছে। আইসিসির ম্যাচ রেফারির হুঁশিয়ারির পরও দর্শকরা এমন কাজ করেছে। বিষয়টি ২৩ জুলাই সারাবিশ্বের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এলে ক্রিকেটের সমঝদার মানুষদের মধ্যে ছিঃ ছিঃ মনোভাব ফুটে ওঠে।
বুধবার ২২ জুলাই চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ঘটেছে এমন ঘটনা। সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা ও স্বাগতিক বাংলাদেশের মধ্যকার দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট চলছে চট্টগ্রামে। বুধবার ছিল ম্যাচের দ্বিতীয় দিন। শেষ বিকেলে বৃষ্টি বিড়ম্বনার কথাটি বাদ দিলে বেশ ভালই চলছিল সবকিছু। কিন্তু হঠাৎ করেই গ্যালারি থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে কতিপয় দর্শকদের ‘ব্ল্যাক, ব্লাক’ বা ‘কোলো’ স্লোগানে চট্টগ্রাম টেস্টের ভাগ্য এখন অনিশ্চয়তার মুখে। দর্শকদের এমন বর্ণবাদী আচরণে ভীষণ চটেছেন ম্যাচ রেফারি ক্রিস রড। এমনকি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) তিনি এই বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দর্শকদের এমন আচরণ বন্ধ না হলে চট্টগ্রাম টেস্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড় বা দর্শকদের বর্ণবাদী আচরণ কড়াভাবে নিষিদ্ধ। যে কারণে বুধবারও স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে বর্ণবাদবিরোধী ঘোষণা দেখানো হচ্ছিল বারবার। যে ধরনের ঘোষণা দেওয়া হয় নিয়মিতভাবেই। এরপরও কতিপয় দর্শকের অতিথি দলের ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে এমন স্লোগান দেওয়ার বিষয়টিকে ভালভাবে নিতে পারছেন না কেউই।

এই বিষয়ে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার ফজলে বারী রুবেল বলেছেন, ‘বেশকিছু দর্শক দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের কালো বলে কটাক্ষ করছিল। লাঞ্চের আগে তামিম ইকবালকে ধাক্কা দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি কক। হয়তো এতেই দর্শকরা একটু ক্ষীপ্ত হয়েছিলেন। এ নিয়ে গ্যালারি থেকে চেঁচিয়ে অনেকেই আপত্তি জানাচ্ছিলেন অনেকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, দু-একজন আবার ব্ল্যাক-ব্ল্যাক বলেও চিৎকার করেছে।’

তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়। লাঞ্চ বিরতির পর দক্ষিণ আফ্রিকানদের নেট অনুশীলনের সময়ও কয়েকজন দর্শক একই কাজ করেছে। বিষয়টি ভালভাবে নিতে পারেনি অতিথিরা। দক্ষিণ আফ্রিকা দল থেকে এই বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ম্যাচ রেফারি এমন ঘটনা অব্যাহত থাকলে ম্যাচ বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। এমন তথ্যই জানিয়েছেন ভেন্যু ম্যানেজার।

ম্যাচ রেফারির হুমকির বিষয়ে ভেন্যু ম্যানেজার আরও বলেছেন, ‘ঘটনাটি এমন বড় কিছু নয়। আমরা ম্যাচ রেফারিকে তা বুঝাতে পেরেছি। উনি তখন বলেছেন, আরেকবার এ রকম হলে তিনি খেলা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন। এরপরই আমরা বার বার বর্ণবাদী আচরণ বিরোধী ঘোষণা দিয়েছি মাঠে, বড় পর্দায়ও তা দেখানো হয়েছে। এর পর থেকে কোনো সমস্যা হয়নি।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন মাঠের খেলা চলাকালে বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল ও দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি ককের মধ্যে খানিকটা বাক-বিতন্ডা হয়েছিল। যা দক্ষিণ আফ্রিকার বাকি ক্রিকেটারদের হস্তক্ষেপে তখনকার মতো মিটে গিয়েছে। তবে তামিম ইকবাল ড্রেসিংরুমের দিকে ফেরার পথে ডি কক ফের তাকে ধাক্কা দিয়েছেন। তিনি তামিমকে কনুই দিয়ে গুঁতা দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন। ডি ককের এমন আচরণে মোটেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি তামিম। তিনি আম্পায়ারকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। তামিমকে শান্ত করতে ছুটে আসেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হাশিম আমলা। ছুটে আসেন ডেল স্টেইনও। তামিমকে শান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি।
এরপরই দর্শকদের একটি অংশ মন্তব্য করা শুরু করে।

আরও পড়ুন