ছেলে বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে পুরান ঢাকার লালবাগে গণধর্ষণের শিকার হওয়া স্কুলছাত্রীর ‘র্ধষণের পরীক্ষা’ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই। এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে লালবাগ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার রাতে ওই স্কুলছাত্রী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
ওই স্কুলছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই তার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সমন্বয়ক ডা. বিলকিস বেগম জানান, তার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
মামলার আসামিরা হলেন— সৈকত ইসলাম রানা, মো. মুন্না ও মো. খোকন।
লালবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই জানান, ঘটনার পর সৈকত ইসলাম রানা নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তবে বাকি দু’জন এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা সুজন মিয়া নামে এক যুবক জানান, স্কুলছাত্রীর বাসা দারুস সালাম এলাকায়। সে ওই এলাকার একটি স্কুলে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। তাদের মধ্যে চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক। বরিশালের ওই কিশোরী মিরপুরের বাগবাড়িতে একটি মেসে থাকেন।
সুজন মিয়া আরও জানান, মেয়েটি বাসা থেকে মঙ্গলবার ২১ জুলাই বিকেলে লালবাগ শহীদনগর এলাকায় সুজনের ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে আসে। বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় রাত ১টার দিকে সুজন তাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য শহীদনগর লোহার ব্রিজ এলাকায় আসে এবং তাকে রেখে একটি দোকানে পানি খেতে যায়। এ সময় তিন যুবক ওই মেয়েকে একা পেয়ে জোর করে পাশের নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে।
পরে সুজন ফিরে এসে মেয়েটিকে খুঁজে না পেয়ে টহল পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পুলিশের সহযোগিতায় ভোর ৫টার দিকে তাকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িত হিসেবে সৈকত ইসলাম রানা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে। তিনি বলেন, এই কিশোরী মঙ্গলবার সকালে তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে সোয়ারীঘাট এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে প্রেমিকের এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। সেই বাসা থেকে বেরিয়ে সোয়ারিঘাটের লোহারপুল এলাকায় তার প্রেমিক পানি পান করার কথা বলে সেখান থেকে চলে যায়। এই সময় গাউছিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী সৈকত ইসলাম রানা ও তার দুই বন্ধু পাশের দুই বাসায় নিয়ে সেই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে।
লালবাগ থানার পরিদর্শক পরিতোষ চন্দ্র ওই ছাত্রী ও তার এক ছেলে বন্ধুর বরাত দিয়ে বলেন, মঙ্গলবার ২১ জুলাই বিকেলে তারা দুইজনে মিরপুর থেকে পুরান ঢাকায় বেড়াতে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে গভীর রাতে ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক একটার দিকে লালবাগ থেকে কামরাঙ্গীরচর যাওয়ার সড়কে ওই ছাত্রীকে একটি অন্ধকার জায়গায় দাঁড় করিয়ে রেখে ছেলে বন্ধুটি একটু দূরের দোকান থেকে কিছু কিনে আনতে যান। কিন্তু ফিরে এসে ওই ছাত্রীকে জায়গায় না পেয়ে প্রথমে নিজে খোঁজ করেন। পরে আশপাশের লোকদের বিষয়টি জানান।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


