যৌনতা শব্দটার মধ্যেই কেমন যেন একটা আলোছায়ার খেলা আছে। অল্প বয়সে যখন সবেমাত্র বুঝতে শিখছি, সে সময় যৌনতা মানেই ছিল কোনও নিষিদ্ধ রজনীর গল্প। বর-বউ খেলা। ক্লাসের দুষ্টু ছেলেদের মধ্যে তখন একটা ছড়া প্রচলিত ছিল –
“রাত বারোটায় নিভল লাইট স্বামী-স্ত্রীতে লাগল ফাইট…”
সিনেমা হলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়, আড়চোখে A-মার্কা পোস্টার দেখতাম। সোজা চোখে দেখার সাহস হত না। অনেক পরে বুঝেছিলাম, ওটা শুধুই বর-বউয়ের গল্প নয়। আরও অনেকের গল্প। তবে গোপন গল্প। যে গল্প কাউকে করতে নেই। যে কথা কাউকে বলতে নেই। সে কথা শুধুই তোমার নিজের কথা।
আরও পরে বুঝেছিলাম, সে কথার উল্লেখ বরকে বা বউকেও করতে নেই। করলেই অনাসৃষ্টি। তুমি যাবে ভালোমানুষী করতে। কেস হবে উলটো। সব প্যায়ার-মহব্বত নিমেষে ধাঁ হয়ে যাবে। আমাদের দেশে যৌনতা নিয়ে সবই হয়। শুধু আলোচনা হয় না। এদেশে ওটা ট্যাবু। আর এই আলোচনার অবকাশ না থাকার কারণেই – অনেক প্রশ্ন অনুচ্চারিত থেকে যায়। অনেকের অনেক ধারণায় ভুল থেকে যায়। সেক্স নিয়ে সেরকমই ১৭টি ভুল ধারণা তুলে ধরা হল। যেমন –
১. অনেকেরই ধারণা সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন কেবল দু-ধরনের হয়। স্ট্রেইট ও গে/লেসবিয়ান।
– স্ট্রেইট মানে সোজা, গে/লেসবিয়ান মানে বাঁকা – এমনটা নয়। স্ট্রেইট মানে সমলিঙ্গের প্রতি যৌন আকর্ষণ নেই। এবং যিনি সমকামী, তাঁর বিপরীত লিঙ্গের প্রতি টান নেই। বিষয়টি কিন্তু পুরোপুরি ঠিক নয়। ১৯৪৮ সালে “কিনসে স্কেল”-এর প্রবক্তা অ্যালফ্রেড কিনসের মতে কাম স্কেলের রেঞ্জ ০ থেকে ৬। এই স্কেলের কে কোথায়, তার উপর নির্ভর করে ওরিয়েন্টেশন। একটি সমীক্ষা করে অ্যালফ্রেড জেনেছেন, পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই পুরোপুরি স্ট্রেট বা পুরোপুরি গে তালিকায় পড়েন না। যৌন আকর্ষণকে জেন্ডার দিয়েও বিচার করা ঠিক নয়।
২. সুইমিং পুল বা গরমজলের টাবে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হলে গর্ভধারণে সুবিধে হয়।
– বিষয়টি একেবারেই ঠিক নয়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত, মিলিত হওয়ার সময় গরমজলের টাবে ৩০ মিনিটের বেশি কাটালে শুক্রাণু কমজোর হয়ে পড়ে। সংখ্যাও কমে যায়।
৩. প্রচলিত ধারণা – ওষুধ খেয়ে, ব্যায়াম করে, পুরুষাঙ্গের আকার বদলানো যায়।
– কিন্তু সত্যি কথা হল, অপারেশন ছাড়া তা কখনওই সম্ভব নয়।
৪. সাধারণভাবে মনে করা হয়, প্রত্যেকটি যৌন অসুখেরই কোনও না কোনও উপসর্গ আছে।
– কিন্তু এ কথা সঠিক নয়। ক্যামিডিয়া, গোনোরিয়া, হার্পেসের কোনও উপসর্গ নেই। এসব অসুখ ঘাপটি মেরে বসে থাকে। ধীরে ধীরে রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
৫. কিছু মানুষের ধারণা আছে…. বিভিন্ন ভঙ্গিতে মিলিত হলে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব।
– এ ধারণা সর্বৈব ভুল।
৬. বৃদ্ধরা মিলিত হন না।
– সত্যি বলতে কী, সাধারণ কাপলদের মতো বয়স্কদের যৌনজীবনও খুব স্বাভাবিক। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, বৃদ্ধ বয়সে নিয়মিত যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হলে শরীর, মন দুই ভালো থাকবে।
৭. ডাবল্ কন্ডোম মানে ডাবল্ সুরক্ষা ।
– ভুল ধারণা। বরং উলটোটাই হতে পারে। দুটো কন্ডোমে ঘষা লেগে ফেটে যেতে পারে। হতে পারে বিপত্তি।
৮. প্রচলিত কনসেপ্ট – দীর্ঘক্ষণ হস্তমৈথুনে অন্ধত্ব আসতে পারে।
– ভুল কথা।
৯. পুরুষাঙ্গ বড় হলেই যৌনসুখ বেশি।
– একেবারেই নয়। এ ক্ষেত্রে সাইজ় ম্যাটার করে না।
১০. যৌনতার খিদে নাকি পুরুষের অনেক বেশি। মহিলারা পিছিয়ে।
– বিষয়টা কিন্তু একেবারেই তা নয়। বরং বলা যেতে পারে, এ ব্যাপারে মহিলারাই অনেক বেশি সক্রিয়। কোনও কোনও মহিলা পুরুষকে পিছনে ফেলার ক্ষমতা রাখেন।
১১. মহিলারা পর্নোগ্রাফি দেখেন না। পর্নোগ্রাফিক সাইটে কেবল পুরুষের ঢল।
– কিন্তু সত্যি বলতে কী, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৮৫ শতাংশ মহিলাই পর্নোগ্রাফি সাইটের দর্শক। যদিও মুখে সে কথা তাঁরা স্বীকার করেন না।
১২. বিয়ের পরই যৌনজীবন সুখের হয়।
– বিয়ের সঙ্গে ইয়ের কোনও যোগ নেই। যোগ আছে কেবল পার্টনারের। তিনি কতটা তৃপ্ত করতে পারছেন, সেটাই আসল।
১৩. যৌনজীবনে লিপ্ত হলে এক্সারসাইজ় করার প্রয়োজন নেই।
– এই ধারণাও ভুল। যৌনতা শরীরের ক্যালরি পোড়াতে পারে না।
১৪. অনেকে মনে করেন, গর্ভনিরোধক বড়ি খেলে ওজন বেড়ে যায়।
– কিন্তু এই তথ্য সঠিক নয়। ৪৪টি পরীক্ষায় প্রমাণিত, গর্ভনিরোধক বড়িতে ওজন বাড়ে না।
১৫. প্রত্যেক সাত সেকেন্ডে সঙ্গমের ইচ্ছে জাগে পুরুষের দেহে।
– এ তথ্যও ভুল। ২০১১ সালে ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষা অনুযায়ী, পুরুষ দিনে অন্তত ১৯ বার সঙ্গমের কথা ভাবে, ১৮ বার খাওয়াদাওয়ার কথা ভাবে, ১১ বার ঘুমের কথা ভাবে।
১৬. গর্ভাবস্থায় ফের গর্ভধারণ হয় না।
– এমন ধারণা ঠিক নয়। গর্ভাবস্থাতেও নতুন করে গর্ভধারণ হতে পারে। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় এই পদ্ধিতকে বলে সুপারফিটেশন।
১৭. মহিলাদের যৌনতা নিয়ে ধারণা, প্রথমবার মিলিত হওয়ার সময় যন্ত্রণা হয়। সেই ভয়ে অনেকেই যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হতে ভয় পান।
– কিন্তু ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এই ধারণা মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


