বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মামীকে নিয়ে উধাও ভাগ্নে: এসপি’র কাছে অভিযোগ

Feni-safia-Shiponনয় বছর বয়সী পুত্র সন্তানের এক জননী স্বামীর ভাগ্নের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। এলাকাবাসী বলছেন, তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে অসম প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায়।

ফেনীর সোনাগাজীতে রেজাউল করিম শিফন (২৫) নামের এক চিহ্নিত শিবির ক্যাডার তার আপন মামিকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাগিনার হাত ধরে উধাও মামি সাফিয়া খাতুন রোমানা (৩০) মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মতিন সওদাগরের বাড়ীর সৌদি প্রবাসী আব্দুল শুক্কুরের স্ত্রী।

এ বিষয়ে বৃস্পতিবার গৃহবধুর শাশুড়ী মরিয়ম বেগম ফেনী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ছৈয়দপুর গ্রামের আবদুল শুক্কুরের সাথে দশ বছর আগে সদর ইউনিয়নের চর খোয়াজ গ্রামের আবদুর রবের মেয়ে রোমানার বিবাহ হয়।বিবাহের কিছুদিন পর শুক্কুর জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান।

তাদের ঘরে আবদুল্লাহ আল নোমান নামের ৯ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

পারিবারিক অসহায়ত্বের কারণে দীর্ঘদিন থেকে লেখাপড়া ও লালন পালনের জন্য নানার বাড়ীতে অবস্থান করছিল উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের মুন্সি মিয়ার ছেলে শিপন। মামা আবদুল শুক্কুর সৌদিতে থাকার সুবাদে মামী রোমানার সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পারিবারিকভাবে বিষয়টি রোমানার মা-বাবাকে একাধিকবার জানানোর পরও কোন কাজ হয়নি।

স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার খবরে মামা আব্দুল শুক্কুর তার ভাগ্নে শিপনকে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছিল।কিন্তু তারপরও তাদের পরকিয়া প্রেম থেমে থাকেনি। সম্প্রতি শিফন তার পরকিয়া প্রেমিকা মামি রোমানা কে নিয়ে পালিয়ে যায়।পালিয়ে যাওয়ার সময় রোমানা ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের কাপড়-ছোপড় ও ৩০ হাজার টাকা মূল্যের বিদেশী মোবাইল ফোনসহ ১৩ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

সামাজিক লোক লজ্জার ভয়ে আব্দুল শুক্কুর একমাত্র ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মুখ না খুলে রোমানাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু গত কয়েকদিন যাবৎ রোমানা-শিপন নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা দায়েরসহ নানা হুমুক-ধমকি দিয়ে আসছে।

এ ব্যাপরে সাপিয়া খাতুন রোমানা (৩০), রেজাউল করিম শিপন (২৪), আনোয়ারা বেগম, জসিম, রাসেল ও আবদুর রবকে আসামী করে অভিযোগ দেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জানান শিফন এলাকায় চিহ্নিত শিবির ক্যডার হিসেবে পরিচিত।মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার সময় সে শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে।বদমেজাজী ও একরোখা আচরনের জন্য তাকে সবাই এড়িয়ে চলতো।

এদিকে লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সুপার অফিস বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে সোনাগাজী মডেল থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগকারী মরিয়ম বেগম বলেন,ঘটনাটি আমাদের পরিবারের মানসম্মান ধুলোয় মিশে গেছে।পরিবারের মান সম্মানের কথা বিবেচনায় চুপ ছিলাম কিন্তু অপরাধ করেও উভয়ে হুমকি দেওয়ার কারনে সুবিচারের জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন