সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যার ঘটনায় মামলা নিতে গাফিলতি ও আসামিদের পালিয়ে যেতে পুলিশের সহায়তার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
২৪ জুলাই শুক্রবার দুপুরে সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। তিন দিনের সফর শেষে শুক্রবার ঢাকা ফিরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গত বুধবার সিলেটে এসেই মন্ত্রী রাজনের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে শান্তনা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে যাদের দায়ী করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজন হত্যায় পুলিশের গাফিলতি তদন্তে গঠিত কমিটি বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। ৪২৪ পাতার এই প্রতিবেদনে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন কললিস্ট যুক্ত করে দেয়া হয়েছে বলেও এসএমপি সূত্রে জানা গেছে।
তবে প্রতিবেদন কোন কোন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাফিলতি ও আসামিদের সাথে সখ্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে- তা জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রোকন উদ্দিন। তিনি বলেছেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। প্রতিবেদনে সবকিছু আছে।
রাজন হত্যাকাণ্ডের পর আসামি মুহিতকে বাঁচাতে এবং মুহিতের সৌদিপ্রবাসী ভাই কামরুলকে পালিয়ে যেতে সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলাম সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন রাজনের বাবা।
এছাড়া দায়িত্বে অবহেলা ও রাজনের বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারেরও অভিযোগ ওঠে পুলিশে দুই সদস্যের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠনের পরই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে জালালাবাদ থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয় এসআই আমিনুলকে।


