বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আইএস জঙ্গি নির্মূলে সিরিয়ায় তুরস্কের বিমান হামলা

Turkey-airstrikeচরমপন্থী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অধিকৃত সিরিয়ায় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ২৪ জুলাই প্রথমবারের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে প্রতিবেশী তুরস্ক। বিমান হামলার পাশাপাশি দেশজুড়ে পুলিশ আইএস ও কুর্দি ২৫১ জঙ্গিকে আটক করা হয়েছে। তুরস্কে আইএসের চালানো বলে ধারণা করা সন্ত্রাসী হামলা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য হত্যার ঘটনার পরপরই দেশটি এ সামরিক ব্যবস্থা নিল। খবর এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসির।

তুরস্কের ইনসারলিক বিমানঘাঁটি থেকে আইএসের ওপর বিমান হামলা চালানোর জন্য বুধবারই যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের সঙ্গে মতৈক্যে পৌঁছেছে। এর ফলে আইএসবিরোধী জোটের হামলা আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে বিমানঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা এটি নিশ্চিত করেছেন।

আইএসবিরোধী যুদ্ধের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক জোটের অংশীদার তুরস্ক। তবে ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে খেলাফত রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেওয়া সংগঠনটির বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় দেশের ভেতরে ও বাইরে সমালোচনার মুখে পড়ে তুরস্ক।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আইএসের প্রতি সহানুভূতিশীল অনেক লোক তাদের পক্ষে লড়তে তুরস্ক হয়ে সিরিয়া প্রবেশ করায় দেশটি সব সময় আলোচনার মধ্যে রয়েছে। তুরস্কের সিরিয়া-সংলগ্ন সীমান্তে গত কয়েক দিনে একাধিক রক্তাক্ত সংঘাত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গিরা তুরস্কের এক সীমান্তচৌকিতে হামলা চালিয়ে এক সেনাকে হত্যা করে। পাল্টা হামলা চালিয়ে এক জঙ্গিকে হত্যা করে তুর্কি সেনারা। ওই দিনই কুর্দি মিলিশিয়ারা আইএসের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ এনে দুই তুর্কি পুলিশকে মেরে ফেলে।

এর আগে গত সোমবার কুর্দি অধ্যুষিত সুরুস শহরে ভয়াবহ বোমা হামলায় ৩২ জন নিহত হয়। ওই হামলার জন্য আইএসকেই দায়ী করা হয়েছে।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই সিরিয়ায় আইএসের অবস্থানে হামলা শুরু করল তুরস্ক সরকার।

তুরস্ক বলেছে, তিনটি এফ-১৬ জঙ্গি বিমান আলাদাভাবে আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে, জঙ্গি বিমানগুলো সিরিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেনি। তারা সীমান্ত শহর হাভারে হামলা চালায়। তুরস্কের শহর কিলাসের পাশেই এই সিরীয় শহরটি।

এদিকে সিরিয়ায় জঙ্গিবিরোধী হামলার পাশাপাশি তুরস্ক জঙ্গিদের ধরতে দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে। রাজধানী ইস্তাম্বুলে ১৪০টি জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এসব অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য অংশ নেন।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাডলু জানায়, ইস্তাম্বুলের পাশাপাশি আঙ্কারা এবং সিরিয়া সীমান্তসংলগ্ন সানলিউরফা প্রদেশের ইজমির শহরে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়েছে।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *