বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পুলিশে পুলিশে মারামারি: নাক ফাটল একজনের

policeআসামি গ্রেপ্তার করাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী শহরের দুই থানার পুলিশের দুই সদস্যের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শাহমখদুম থানার পুলিশ কনস্টেবল উজির উদ্দিনের নাক ফাটিয়েছে বোয়ালিয়া থানার এএসআই মোহাম্মদ মজনু।

বৃহস্পতিবার ২৪ জুলাই রাতে রাজশাহী শহরের তেরখাদিয়া এলাকায় বোয়ালিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ মজনু ও শাহমখদুম থানার কনস্টেবল উজির উদ্দিনের মধ্যে এই মারামারির ঘটনা ঘটে।

আহত উজির উদ্দিনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শুক্রবার সকালে তিনি হাসপাতালে থেকে কাউকে কিছু না বলে চলে যান।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বোয়ালিয়া থানার এএসআই মোহাম্মদ মজনু বৃহস্পতিবার রাতে তেরখাদিয়া এলাকায় মনিরুল ইসলাম নামের একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে যান। এ সময় মনিরুল দাবি করেন, তিনি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। কিন্তু থানায় ‘রিকল’ জমা দেননি। তাই তাকে গ্রেপ্তার না করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন। কিন্তু তারপরও পুলিশ মনিরুলকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পাশের বাসায় ভাড়া থাকা শাহমখদুম থানার কনস্টেবল উজির উদ্দিন তার স্ত্রীসহ বেরিয়ে আসেন।

কনস্টেবল উজির এরপর এএসআই মজনুর কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখতে চাইলে মজনু উজিরের স্ত্রীকে মারতে উদ্যত হন। উজির এতে বাধা দিলে মজনুর সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে এএসআই মজনুর ঘুষিতে উজির উদ্দিনের নাক ফেটে যায়। পরে মজনু আসামি মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন।

শুক্রবার ২৪ জুলাই আদালতের মাধ্যমে মনিরুলকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভোর চারটার দিকে কনস্টেবল উজির উদ্দিনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে (নাক, কান ও গলা বিভাগে) ভর্তি করানো হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কনস্টেবল উজিরকে হাসপাতাল ছেড়ে আসার জন্য থানা থেকে চাপ দেওয়া হয়। সকাল সাতটার দিকে উজির উদ্দিন হাসপাতালের কাউকে না জানিয়েই পালিয়ে যান।

জানতে চাইলে এএসআই মজনু বলেন, মনিরুলকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসার সময় উজির উদ্দিন তাঁকে পেছন থেকে জাপটে ধরেন। এ সময় উজিরকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে হাতকড়ার আঘাতে তিনি কিছুটা আহত হয়েছেন।

মজনু বলেন, আগেই যদি উজির উদ্দিন নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলতেন তাহলে এই ভুল বোঝাবুঝি হতো না। এটা তেমন কিছু নয়। উজির তাঁর ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে তাঁকে ফোনে ‘সরি’ বলেছেন।

উজিরের স্ত্রীকে মারতে যাওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে এএসআই মজনু অস্বীকার করে বলেন, ‘ছিঃ ছিঃ আমার কি মা বোন নেই।’

 

প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসের শুরুতে রাজশাহী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে অভূতপূর্ব এক গণ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে প্রায় দেড়শ শিক্ষানবিস পুলিশ। রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে (আরআরএফ) নিজেদের মধ্যে মারামারিতে পুলিশের ১৮ সদস্য আহত হয়েছেন। গত ৮ জুলাই ইফতারের পর এ ঘটনা ঘটে। আহত ১৮ জনের মধ্যে ১৩ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

রামেক হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোশারফ হোসেন জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহত অবস্থায় রিজার্ভ ফোর্সের ১৮ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। পরে চিকিৎসক ১৩ জনকে হাসপাতালের ১৪ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত পুলিশ কনস্টেবলরা হলেন- হারুন অর রশিদ, জয় মাহামুদ, রাফিউল্লাহ, মেহেদী হাসান, আজম, জাহাঙ্গীর হোসেন, আমিরুল ইসলাম, শহিদুল্লাহ, সেলিম, ফিরোজ ও সাইফুল ইসলাম। জানা গেছে, রাতে রামেক হাসপাতালে সাংবাদিকরা তথ্য নিতে গেলে ও ছবি তুলতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। ঘটনা থামাতে ব্যর্থ হওয়া দুই প্রশিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন এসআই (সশস্ত্র) মোর্সেদ আলম ও এএসআই (সশস্ত্র) সেতাউর রহমান।

আরআরএফ সূত্র জানায়, আগের এক মারামারির ঘটনায় সেদিন বিকালে ১১৩ জন কনস্টেবলকে শাস্তি দেওয়া হয়। এ নিয়ে ইফতারের সময় পুলিশ সদস্যরা নিজেদের মধ্যে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা মারামারিতে লিপ্ত হন।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন