প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিদিন ব্যস্ততার মধ্যে সময় অতিবাহিত করেন। অথচ রাজনৈতিক জীবনের বাইরে পারিবারিক জীবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ধারণা ছিল তিনি খুব আরাম প্রিয়। ঈদ সংখ্যা অনন্যায় দেয়া শেখ রেহানা এক সাক্ষাতকারে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আপা (শেখ হাসিনা) যে এত কাজ করতে পারেন, মায়ের তো ধারণা ছিল আপা খুব আরাম প্রিয়। বড় সন্তান বলে তিনি ইউনিভার্সিটিতে যাবেন, কাপড়টাও মা রেডি করে দিতেন। আপা এসে তো গল্পের বই আর অনুরোধের আসর নিয়ে বসতেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বই পড়া, সিনেমা দেখার খুব সখ ছিল।
এ প্রসঙ্গে শেখ রেহানা বলেন, হ্যাঁ, মাঝে মাঝে পুরানো গান, পুরানো সিনেমা ছেড়ে দেই। লন্ডনে যখন ফোন করে গান ছেড়ে দিয়ে বলি এই গানটা মনে পড়ে? আপা অবাক হয়ে বলে- ‘এটা কোথায় পেলি?’ আমার তো গানের অনেক কালেকশন। টিউলিপ যখন ওখানে (ব্রিটেনে) অনেক ভোটের ব্যবধানে জিতে এমপি হয়- আমার একটাই আফসোসের কথা আপাকে বলি, ‘আপা আমি যদি দৌঁড় দিয়ে মায়ের কাছে গিয়ে বলতে পারতাম ! ’ যখন খুব অস্থির হয়ে যাই, তখনি হঠাৎ করে আমার মায়ের কথা মনে হয়। মাইক্রোওয়েভে আমরা খাবার গরম করি, পাঁচ মিনিট সহ্য হয় না। আমি তখন চিন্তা করি, আমরা পাঁচটা ভাইবোন। ন্যাপি তো দূরের কথা, মায়ের কাঁথা ধুতে ধুতেই তো জান শেষ হয়ে যেত।
সংসারে আজকাল প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। জীবন যাত্রা যেমন সহজ হয়েছে তেমন মানুষের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। তারপরও শেখ রেহানার কাছে মনে হয়, মা কেমন করে পারত? তাহলে আমি পারব না কেন? তারপরে রান্নায় গ্যাস জ্বালিয়ে দেই, বাজারে সব রেডি, আর মা লাকড়ি চুলায় ফুঁ দিয়ে দিয়ে-গাল দুটো লাল টকটকে হয়ে যেত। পরিবারের লোকজন, পলিটিক্যাল লোকজন, পুরা গুষ্ঠির রান্না। মা কেমন করে পারতেন? বর্ষাকাল আসলে মায়ের সে কি চিন্তা! তখন তো গ্যাস ছিল না। আমাদের লাকড়ির চুলা আর একটা কয়লার চুলা ছিল। আমারও অবশ্য ডিসপোজেবল ন্যাপি বাচ্চাদেরকে পড়ানো সৌভাগ্য হয়নি। আমি বাথটাবের মধ্যেও বসে বসে কাপড় কাচতাম। আপা একবার দেখে আমাকে একটা ওয়াশিং মেশিন কিনে দিয়ে আসে। কারণ আমার তখন অপারেশন হয়েছিল- খুব কষ্ট হতো।
নিজের জীবনকে শেখ রেহানা তার মা- দাদির জীবন সংগ্রামের সাথে নিজেকে তুলনা করে দেখেন। তিনি বলেন, হ্যাঁ, এই সব জিনিস চিন্তা করি, আর ভাবি- আমি কত ভালো আছি! আর, আমার থেকে কত কষ্টে আছে কত মানুষ। এই যে ইয়াং মেয়েরা, যাদের স্বচ্ছলতা নেই, যারা বস্তিতে থাকে। জীবনে আনন্দ কী জিনিস জানে না। কর্মজীবী মেয়েদের কত সমস্যা, কত বাধা থাকে। তখন চিন্তা করি, আমরা কত লাকি। একটা সাজের জিনিস, একটা লিপিস্টিক পেলে আমার মেয়ে কত খুশি হয়! ঠিক রুপন্তীর বয়সের আরেকটি মেয়ে, তারাও পেলে খুশি হয় নিশ্চয়ই, কিন্তু পায় না। আমার বাসায় আমাকে যারা হেলপ করে, আমি যখন কারো জন্য কিছু কিনি ওদের জন্যও কিছু নিয়ে আসি। সেটা হতে পারে একটা লিপিস্টিক, ক্রিম, লোশন, সাজার জিনিস, ভালো সাবান। সবার জন্যে তো আনা সম্ভব হয় না। যতটুকু পারি, মানুষের একটা সময় থাকে, যখন পছন্দের জিনিস দেখলে বেহঁশ হয়ে যেতে হয়- এটা লাগবেই, কিনতেই হবে! কিন্তু এখন যত বয়স বাড়ছে, ততই মনে হয়, এটা লাগবেই কেনো? না কিনলেই কি হয় না?
ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম



Leave a Reply