বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলন প্রতিহত করতে ছাত্রলীগের সম্মেলন দুই বছর পোছানোর কারণে নেতৃত্বের বয়সও দুই বছর গ্রেস দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের ২৮তম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তি ও গবেষণার উপর গুরুত্ব দিতে ছাত্রলীগের প্রতি আহব্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শ্ক্ষিা-শান্তি প্রগতি ছাড়া আর কিছু নেই। কারণ অশিক্ষিত নেতৃত্ব্ কিছুই দিতে পারে না। যার পরিনতি বাংলাদেশ দেখেছে।
শনিবার ২৫ জুুলাই রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের দুই দিনব্যাপী ২৮তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগের নেতা হতে ২৭ বছর বয়স আগে থাকলেও এখন ২৯ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপি জামায়াতের নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলন প্রতিহত করতে ছাত্রলীগকেও অংশ নিতে হয়েছে। তাই সম্মেলন করা যায়নি। এই কারণে নেতৃত্বের বয়সেও দুই বছর গ্রেস দেওয়া হবে।
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ২০০১ থেকে যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের কারণে দেশে জঙ্গিবাদ,সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা পড়ালেখায় ভালো,যারা মেধাসম্পন্ন শুধু মাত্র তাদেরকেই ছাত্রলীগে নির্বাচিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মেধাবীদেরকেই নির্বাচিত করতে হবে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, এ উপমহাদেশে সবচেয়ে প্রাচীনতম সংগঠন ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ যেন সব সময়ই একটা আদর্শ নিয়ে চলে। ত্যাগ ছাড়া নেতৃত্ব গড়ে উঠে না। শুধু ভোগের জন্য যারা রাজনীতি করে তারা দেশকে কিছুই দিতে পারবে না। ত্যাগের মনোভাব থাকতে হবে। ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ পিছিয়ে গেল। একাত্তরের পর ২১ বছর পর যখন ক্ষমতায় আসলো তখন আবারো বাংলাদেশ এগিয়ে গেল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,বাংলাদেশ অভিশপ্ত ছিল। কারণ ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। একদিনে আমি মা-বাবা,ভাই হারিয়েছিলাম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জাতির পিতার খুনিদের বিচারের মাধ্যমে জামি আজ অভিশাপমুক্ত হচ্ছে।
ছাত্রলীগের সাংগঠনিকপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙ্গালীর ইতিহাস, সংগ্রামের ইতিহাস। আন্দোলন সংগ্রামে সূচনা করার উদ্দেশেই বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা হয়। বাঙ্গালির প্রতিটি আন্দোলনেই ছাত্রলীগ রক্ত ঝরিয়েছে। আমি নিজেও ছাত্রলীগের একজন কর্মী ছিলাম।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ছাত্রলীগ একটি আদর্শ দল। এ আদর্শ ধরে রাখতে হবে। ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতা কর্মীকে আদর্শ নিয়ে গড়ে তুলতে হবে। শান্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। যারা জঙ্গিবাদকে লালন করছে তাদের কাছে দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়। এ দেশের উন্নয়নের জন্য ছাত্রলীগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমার বিশ্বাস তারা আগামীতেও এ অবস্থা অক্ষুণ রাখবে।
শনিবার সকাল সোয়া ১১টায় ঢাকা শহরের ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আকাশে পায়রা উড়িয়ে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তিনি।
সম্মেলনে সারাদেশ থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে দু’দিনব্যাপী (শনি ও রোববার) এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এ সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করা হবে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি। তাছাড়া সিন্ডিকেটর দৌরাত্ম ঠেকিয়ে মেধাবী, দক্ষ ও যোগ্যদের নেতৃত্বে আনতে সমঝোতার ভিত্তিতে এ কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


