বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

তত্ত্বাবধায়কের দাবি থেকে সরলেন খালেদা

Khaleda_25-07-15তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচন থেকে সরে এলেন খালেদা জিয়া। এবার তিনি বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, যে কোনো নামে একটি ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। শনিবার ২৫ জুলাই সন্ধ্যার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে গুলশানে নিজের কার্যালয়ে মতবিনিময়ে এ দাবি জানান তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে আসা খালেদা জিয়া বলেন, “গত তিনটি সিটি নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

“আমি বলবো না, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। যে নামেই হোক একটি নিরপক্ষে সরকারের অধীনে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।”

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভন নয়। তাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। আমরা বলছি না তত্ত্বাবধায়ক সরকারই দিতে হবে। যেকোনো নামেই হোক না কেন, নিরপেক্ষ সরকারে অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।’

সরকার জঙ্গি নাটক সাজিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ আছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না।’

রাস্তা-ঘাটের অবস্থা ভালো নয় উল্লেখ করে খালেদা বলেন, ‘সরকারের উদাসীনতার কারণে মূল্যবান প্রাণ ঝরে যাচ্ছে।’

ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য চোরাচালানের সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্টতা আছে বলেও এসময় অভিযোগ করেন তিনি।

উপস্থিত আইনজীবী নেতাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘ইতোপূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রামে এগিয়ে ছিল।’

এবারের আন্দোলনেও তারা সেই ভূমিকা রাখবে বলে খালেদা জিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতনে আওয়ামী লীগ জড়িত অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কারণে দেশের মানুষের চরিত্র নষ্ট হয়ে গেলে।’

তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দল এবং সব রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন সবার সঙ্গে সমান আচরণ করেছি। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। আমরা আবার ক্ষমতায় গেলে এমন করবো না। যারা উপযুক্ত, যাদের যোগ্যতা আছে আমরা তাদের প্রমোশন দেব।’

মতবিনিময়কালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা বারের সভাপতির অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন