বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক হচ্ছেন সোহাগ-জাকির

BCLআওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগে নিয়ম রক্ষার নির্বাচনরে মাধ্যমেই নির্ধারণ হচ্ছে নেতৃত্ব। বাংলাদেশের প্রাচীন এই ছাত্র সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ২৮তম কাউন্সিলের দ্বিতীয় দিন রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ছয়টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রলীগের ১১১টি ইউনিটের প্রায় তিন হাজার কাউন্সিলর পরবর্তী দুই বছরের জন্য তাদের নেতা নির্বাচন করবেন। কাউন্সিলররা স্বচ্ছ ব্যালট বক্সে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

‘সিন্ডিকেট’ প্যানেলের বাইরে শক্তিশালী কোনো প্যানেল বা প্রার্থী না থাকায় অনেকটাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হওয়ায় ‘নিয়ম রক্ষার এই নির্বাচনে’ শীর্ষ দুই নেতা হতে যাচ্ছেন সোহাগ ও জাকির।

ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন এলাকায় দেখা যায়, মিলনায়তনের বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সোহাগ-জাকির প্যানেলের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। সেখানে এই দুই প্রার্থীর অনুসারী ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর অনুসারীদের দেখা যায়নি।

সকাল সাড়ে ১১টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের দরজায় শুধুমাত্র সোহাগ ও জাকিরকে দেখা যায়। তার ভোটারদেরকে নিজেদের পক্ষে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। সে সময় অনেক ভোটারকে তাদের সাথে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতেও দেখা যায়।

সভাপতি প্রার্থী সাইফুর রহমান সোহাগ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রলীগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জাকির হোসেন বলেন, ‘সময়ের সাহসী সন্তানেরা ছাত্রলীগের রাজনীতি করে। আগামী দিনগুলোতে যেন তারা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আসে আমি সেই চেষ্টা করব।’

সভাপতি প্রার্থী চৈতালী হালদার চৈতী বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ছাত্রলীগই নারীদের প্রধান্য দেয়। তাই নারী সমাজের প্রতিনিধি হয়েই এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।’

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী বলেন, ‘আমাদের প্রার্থিতা বহাল থাকলেও কোনো লাভ হত না। কারণ কাউন্সিলরদের প্রায় সবাই সিন্ডিকেটের অনুসারী। তারা যাদের ভোট দিতে বলছে, কাউন্সিলরাও তাদের ভোট দেবে। তাই আমরা আমাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এটা অনেকটাই নিয়মরক্ষার নির্বাচন।’

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের সাথে আলোচনা করেন ছাত্রলীগের বিদায়ী সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুমন কুন্ডু, নির্বাচন কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, শেখ রাসেল। সেখানে তাদের সাথে আলোচনার পরই সভাপতি পদে ৬৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। সাধারণ সম্পাদক পদে ১৪৯ জনের মধ্যে ১৩১ জন প্রত্যাহার করেন। চূড়ান্তভাবে সর্বশেষ সভাপতি পদে ১০ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

সিন্ডিকেট প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। সিন্ডিকেটের বাইরের শক্তিশালী প্রার্থী শামসুল কবির রাহাত বয়সের কারণে বাদ পড়ায় নির্বাচন অনেকটাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হয়ে পড়ে। কারণ রাহাত যে প্যানেল থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সেই প্যানেল থেকে অন্য কোনো প্রার্থী করা হয়নি।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার ২৫ জুলাই ছাত্রলীগের ২৮তম সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দ্বিতীয় দিনের কাউন্সিল অধিবেশনের শুরু হয়। এরপর শুরু হয় ভোটপর্ব।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন