চার-পাঁচ দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও মিরসরাইয়ে বন্যার পানিতে ঢুবে মারা গেছেন আবু তাহের ও কবির আহমেদ ডিপজল নামে দু’ব্যক্তি। চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার, মিরসরাই, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নোয়াখালীর বিস্তীর্ণ এলাকায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
ফেনীর মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। পানিবন্দি হাজারো মানুষ। ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, ক্ষেত খামার, পথঘাট। এমন অবস্থায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পানি নেমে যাওয়ার পর উদ্যোগ নেয়া হবে বাঁধ মেরামতের। এদিকে বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বান্দরবানের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ। কয়েক দিনের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে শনিবার সকালে ভেঙে যায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।
এতে তলিয়ে যায় ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার অন্তত ১০ টি গ্রাম। ডুবে গেছে অনেকের মাথা গোঁজার ঠাঁই। ভেসেছে ফসলের ক্ষেত, পথঘাট। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত পাঁচশো দোকান। পানিবন্দি মানুষকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পানি নেমে যাওয়ার পর উদ্যোগ নেয়া হবে বাঁধ মেরামতের। একই পরিস্থিতি বান্দরবানে। বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলে এরইমধ্যে প্লাবিত হয়েছে সদর উপজেলার ইসলামপুর, আর্মিপাড়া, মেম্বরপাড়াসহ কয়েকটি এলাকা। দুর্গত এলাকার অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে উঁচু স্থানে।
এছাড়া, বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় সারা দেশে সাথে বন্ধ রয়েছে সড়ক যোগাযোগ। ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ের আশপাশ থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেছে স্থানীয় প্রশাসন। এরই মধ্যে, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও বিজিবি। টানা বর্ষণ আর ঢলে বন্যা দেখা দিয়েছে কক্সবাজারের রামু উপজেলায়ও।
নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


