বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

‘স্বাদে আহ্লাদে’র অন্যরকম সমালোচনা

Swade-Ahlade_2_Newsworldbdজয়িতা সেনগুপ্ত।

জি বাংলা সিনেমায় ২৬ জুলাই রাতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে অরিন্দম শীলের সিনেমা ‘স্বাদে আহ্লাদে’। ছোটপর্দায় মুক্তি দেওয়া নিয়ে কিছুদিন ধরেই এর প্রচারণা চলছিল। দর্শকের আগ্রহও জন্মে। এই প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া জয়িতা সেনগুপ্ত একটি রিভিউ লিখেছেন। তার রিভিউটি কিছুটা ভিন্ন ধাঁচের।

প্রিয় অরিন্দম বাবু, আমি আপনার অভিনয়ের একজন গুণমুগ্ধ। ইতিপুর্বে আপনার পরিচালিত প্রথম ছবি ‘আবর্ত’ দেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তাই ‘স্বাদে আহ্লাদে’ দেখার জন্য মুখিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, খুব যে হতাশ হয়েছি এমন টা বলতে পারিনা। কিন্তু কিছু বিষয় নিয়ে একটু অসন্তোষ রয়ে গেল। তাই ভাল লাগা আর খারাপ লাগা দুটোই ব্যক্ত করছি-

ভাল লাগাঃ
১) ছবির শুরুতে উত্তর কলকাতার একটা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে যেটা ক্যামেরার গুনে দেখতে বেশ ভাল লেগেছে।

২) শ্রীলেখা মিত্র হাতিবাগানের মধ্যবিত্ত পরিবারের ডি-গ্ল্যামারাস বৌয়ের ভুমিকায় অনবদ্য। যারা ওনার নগ্ন স্না্নদৃশ্যর ছবি দেখে নাক সিটকেছেন,তাদের উদ্দেশ্যে বলি,এখানে নগ্নতাটাকে বোধহয় ওভার এক্সপোজ করা হয়নি। বরং পরিমিত যত্ন সহকারে পুরো বিষয়টা হ্যান্ডেল করা হয়েছে।তাই স্নান পরবর্তি সুর্য স্তবটা চমৎকার মানানসই লেগেছে দেখতে।

৩) মেকআপহীন মুখে ছোটোছোটো অভিব্যাক্তিগুলো অসাধারন। জানলা দিয়ে আকাশ দেখা,কৃত্তিকাকে দেখে অবাক হওয়া,ছায়ার বুকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়া, কৃত্তিকার সাথে আলাপচারিতা, প্রথমবার কৃত্তিকা্র বাড়ীতে রান্না করতে দ্বিধা,রান্না শেষ করার পর মুখে ফুটে ওঠা বিন্দু বিন্দু ঘাম,সাফল্যের হাসি, সামনের বাড়ী থেকে হ্যাপি বার্থ ডে শুনে সেটা গাইতে গাইতে প্রান খুলে হেসে ওঠা,বাড়ী থেকে বেরিয়ে যাওয়া,শেষ দৃশ্যে গুন্ডা দেওরদের চড় মারা এবং আরো ছোট ছোট অনেক মুহুর্ত, শ্রীলেখা মিত্র মুগ্ধ করেছেন বারবার। তিনি তার জায়গায় যথাযথ।

৪) প্রিয়াঙ্কা সরকার আর নিনা চক্রবর্তি ও চমৎকার। যার যার ভুমিকায় শেষ পর্যন্ত মাতিয়ে রেখেছেন। বাকিরাও যে যার জায়গায় যথাযথ। যদিও বিশ্বনাথের অভিনয় আমার একটু চড়া দাগের লেগেছে।

৫) গানের ব্যবহার খুব সুন্দর। ‘ও জোনাকি,’ এবং ‘এবার তোর মরা গাঙ্গে’ গান দুটো অনেকক্ষন কানে বাজে। বিক্রম ঘোষের আবহ সঙ্গীত মন ছুঁয়ে যায়।

ভাল না লাগাঃ

১ )গল্পের গতিতে দ্বিতীয় অংশে বড্ড তাড়াহুড়ো চোখে পড়েছে আমার। বিশেষত চৈতালীর চরিত্রটা ঠিক যেন উত্তীর্ন হয়েও হল না। প্রথমাংশ ঠিকঠাক। ঘোষালবাড়ীর নিষ্ঠুরতা দেখে আমরাই চাইছিলাম কৃত্তিকার আগমন। তাই ট্যাক্সি থেকে তাকে নামতে দেখে মনে একটা অদ্ভুত নিশ্চিন্তের ভাব আসে যা গল্পারোপিত নয়,স্বতঃস্ফুর্ত।হোম ডেলিভারি খুলতে চাওয়া অব্ধি ঠিক আছে। কিন্তু গল্প বল্গাহীন ভাবে দৌড়তে শুরু করল এর পর থেকে এবং তৈ্রী করতে শুরু করল একের পর এক অসন্তোষ।

২) চৈতালী এই ব্যবসা আরম্ভ করে তারই বলা একটা কথার সূত্র ধরে যএ বাইরে বেরুতে গেলেই তাকে হাত পাততে হয়। প্রথম রোজগারের টাকা দিয়ে চৈতালীর নিজের জন্য সামান্য কিছুও কেনা(অন্তত একটা সুতোর রীল)দেখালেও ব্যপারটা অনেক বাস্তবিক লাগত।ও যে কেন রোজগার করল সেটাই বোঝা গেল না।

৩) চৈতালী যেন এল, দেখল, জয় করল। খুব একটা বাধাও পেল না। পুরো ব্যপারটাই যেন গল্পের প্রয়োজনে ঘটানো হল।আর এক্টূ স্তর দেখালে ভাল হত

৪) যে মানুষ কোনদিন পার্লার যায়নি, সে প্রথম পার্লারে গিয়েই এত সপ্রতিভভাবে মেক আপ সামলায় কী করে? একটু অসোয়াস্তি দেখালে বিশ্বাসযোগ্য লাগত।

৫) কৃত্তিকা এক তরফা ভাবেই চৈতালীকে বুঝিয়ে গেল,তার পাশে থেকে গেল। কৃত্তিকার কোনো একটা খারাপ সময়ে চৈতালী তার পাশে দাড়িয়েছে এটা দেখালে দুজনের রসায়নটা আরও জমত যেটা এখানে বড়ই একপেশে লেগেছে।

৬) শেষাংশে চৈতালীর শ্বশুরবাড়ীতে ফিরে আসা এবং শ্বশুরকে দিয়ে দোকান উদবোধন করানোটা একেবারেই সস্তার লেগেছে আমার। তাহলে আর প্রতিবাদটা হল কোথায়?

সব মিলিয়ে গল্পটায় চৈতালীর উত্তরণ বড্ড বেশী গল্পের প্রয়োজনে। এটা দর্শকের ক্ষিদেতে হলে আরো বেশী ভাল লাগত।তুলনায় অন্যান্য চরিত্রদের উপস্তিতি অনেক বেশী বিশ্বাসযোগ্য।

পরিশেষে বলতে পারি, এই গল্পটাকে আমি ১০-এ ৮টা মিরচি দিলাম।

জয়িতা সেনগুপ্ত, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন