বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পুরনো ধারণা বদলাতে হবে: ডিসিদের ২১ দফা নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

pm-DC_28-07-15দেশের ৬৪টি জেলার ডিসিদের একুশটি বিষয়ে বিশেষ নজর রাখার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি বলেন, ‘পুরনো ধ্যান-ধারণা বদলে’ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মঙ্গলবার ২৮ জুলাই শুরু হওয়া তিনদিনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রুটিন কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রতিটি জেলায় কি ধরনের নতুন কাজ হাতে নেওয়া যায়, যা ওই জেলার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে, সেই ধরনের নতুন নতুন পন্থা আবিষ্কার করা, কৌশল নির্ধারণ করা এবং বাস্তবায়ন করার দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।”

সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকরা যে জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে, সে কথাও তাদের মনে করিয়ে দেন শেখ হাসিনা।

দেশের সব জেলার প্রশাসকদের নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকদের তিন দিনের এই সম্মেলনের উদ্বোধন হয় প্রধানমন্ত্রীর কার‌্যালয়ের শাপলা হলে। জেলা প্রশাসকরা ছাড়াও মন্ত্রী পরিষদের সদস্য এবং প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঔপনিবেশিক আমলে জেলা প্রশাসনের জন্ম হলেও বর্তমানে কালের বিবর্তনে আজ সবকিছুরই পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে কীভাবে এই দেশ পরিচালনা করব, উন্নত করব এবং এগিয়ে নিয়ে যাবো সেটাই হচ্ছে বিবেচ্য বিষয়।

“কাজেই পুরনো ধ্যান-ধারণা পরিবর্তন করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, একটি জেলার সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে জেলা প্রশাসনের কর্মীদের ওপর। ভূমি ব্যবস্থাপনা, নির্বাচন পরিচালনা, ভেজালবিরোধী অভিযান, পরিবেশের সুরক্ষা, বৃক্ষ নিধন ও পাহাড় কর্তন রোধ, পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কর্মসূচির বাস্তবায়নের মত কাজগুলো তাদের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়।

তবে এসব ‘রুটিন কাজের’ পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের সৃজনশীল হওয়ার তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “একেক অঞ্চলের একেকরকম বিশেষত্ব রয়েছে। যেমন একেক জেলায় একেক জিনিস উৎপাদন, মানুষের ও জীবনযাত্রার মধ্যে ভিন্নতা দেখা যায়। এক্ষেত্রে কোন এলাকার মানুষের কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, বা কোন এলাকায় কোন ধরনের পণ্য উৎপাদন হতে পারে, কোন এলাকার জন্য কী পদক্ষেপ নিলে সে এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত হতে পারে সে ধরনের বিশেষ দিকগুলো একটু খুঁজে বের করা।”

সব ভয়-ভীতি ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে আইনের আওতায় দায়িত্ব পালন করতে জেলা প্রশাসদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “রাষ্ট্র তথা জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণই হবে আপনাদের মূল লক্ষ্য। সেবার মনোভাব নিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকলে আপনাদের পক্ষে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব হবে।”

চলতি বছরের শুরুতে রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে নাশকতা দমনে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক সমস্যা থেকে মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যা আরও কঠিন ছিল। সেগুলো আপনারা যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছেন। আপনারা সক্রিয় ছিলেন বলেই এ ধরনের অবস্থা থেকে আমরা উত্তরণ ঘটাতে পেরেছি।”

ভবিষ্যতে যাতে ‘এ ধরনের কাজ’ কেউ করতে না পারে সে বিষয়েও সজাগ থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

ডিসিদের মানুষের প্রতি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “এদেশের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ; তাদের অর্জিত অর্থই কিন্তু আপনাদের বেতন-ভাতা, বা আমরা যে যা কিছু ভোগ করি.. এটা কিন্তু তাদেরই অবদান। তাই তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করা এবং উন্নত জীবন দেওয়া, এটা কিন্তু সকলের কর্তব্য।”

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন