বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সালাউদ্দিনকে কোরবানি বিএনপির

BNP-Leader-Salauddin-Quader-to-be hangedসালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পাশে নেই বিএনপি। রায় ঘোষণার পর বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেই দলটি চুপ রয়েছে। রায় বহাল রাখার ঘোষণার পর দলটির অধিকাংশ নেতা কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। দলের ভেতরে ও বাইরে নানা কারণে আলোচিত এই রাজনৈতিক নেতার ওপরে আগে থেকেই কি বিরাগভাজন ছিলো বিএনপির হাইকমান্ড?। যদি তাই না হবে তাহলে চূড়ান্ত রায় ঘোষণার পর দলে পক্ষ থেকে কেন কোনো কর্মসূচি নেই। প্রতিক্রিয়া জানাতেও কেন এতো বিলম্ব হলো এসব বিষয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের ভেতরে থাকা সালাহউদ্দিন কাদেরের সর্মথকরা।

বুধবার ২৯ জুলাই সকালে রায় ঘোষণার পর বিকেল ৫টায় নয়াপল্টন দলের সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় দলটির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন। এরআগ পর্যন্ত কোনো কথা বলা থেকে বিরত থেকেছে দলের নেতারা। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান রিপন দলের পক্ষে একটি লিখিত বক্তব্যে দিয়ে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব শেষ করেন। লিখিত বক্তব্যে বিএনপির পক্ষ থেকে সালাহউদ্দিনের প্রতি সহমর্মিতা জানানো হয়। এ রায়ে দলটি বেদনাহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে আর কোনো বক্তব্য বা কর্মসূচি দেয়নি বিএনপি।

দলের পক্ষ থেকে দায়সারা গোছের প্রতিক্রিয়া খুশী হতে পারেননি দলের মধ্যে থাকা সালাহউদ্দিন সর্মথকরা। তারা বিএনপির এই মনোভাবে অনেকটাই হতাশ হয়েছেন। নেতাকর্মীরা ভেবে ছিলেন রায় ঘোষণার পর বিএনপি কঠোর কোনো কর্মসূচি দেবে কিন্ত নূন্যতম কোনো কর্মসূচি না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন তারা। তাদের বক্তব্য জামায়াত তাদের র্শীষ নেতাদের রায় ঘোষণার পর হরতালের মত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কিন্তু বিএনপি শুধু মাত্র সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই সালাহউদ্দিনের প্রতি তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে।

দলের জন্য কী সালাহউদ্দিন কাদেরের কোনো অবদান নেই এমন প্রশ্ন ছিলো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সালাহউদ্দিন সর্মথকদের মুখে। তার ফাঁসির রায় ঘোষণার পর প্রথমে মুখ খোলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, এ রায়ে আমি হতাশাগ্রস্ত, দুঃখিত ও মর্মাহত হয়েছি। তবে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান ও নজরুল ইসলাম খান এব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ভারতীয় দূতাবাস থেকে ফেরার সময় সালাহউদ্দিনের রায় নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈনের কাছ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উপযুক্ত সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দেয়া হবে।

তবে দলটির সূত্র জানায়, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়ের ব্যাপারে নিরব থাকার নির্দেশনা ছিলো বিএনপিতে। একারণে বিএনপির কোনো নেতা কথা বলতে সাহস পাননি। যদিও মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলা নিয়ে বিচার প্রক্রিয়ার শুরু থেকে স্বচ্ছতা নিয়ে অনেকটা কৌশলে বক্তব্য দিয়েছে। বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে নানা সময়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিভিন্ন সময় এসব বিষয় নিয়ে দলের পক্ষে সর্তক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। র্স্পশকাতর বিষয় হওয়ার কারণে অনেকটা কৌশলে এগুচ্ছে তারা

দলের সূত্র জানায়, বাকপটু স্বভাব ও নানা ধরনের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে রাজনীতিতে সবসময়ই আলোচিত-বিতর্কিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে নিয়ে দলের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। তিনি দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া এবং দলের নেতাদের নিয়ে নানা মন্তব্য করার কারণে দলের মধ্যে তার বিরুদ্ধে মতভেদ রয়েছে।

২০০১ সালে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে নিয়ে কটূক্তি করায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। এরপর তাকে আবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। ওই নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের পর দলের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে নানা বিতর্কিত মন্তব্য করার কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও দলে মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠে। দলের প্রধান ও নেতাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে তার বিরুদ্ধে মিছিল করে দলীয় নেতাকর্মীরা।

১৯৯৬ সালে এনডিপি (ন্যাশনাল ডেমোক্রাটিক পার্টি) বিলুপ্ত করে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন