ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই সকাল ছয়টা থেকে ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে নৌ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা মেনে ঢাকা নদী বন্দরের সদরঘাট টার্মিনাল থেকে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ঢাকা নদী বন্দর কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঢাকা নদীবন্দরে তিন নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ৪১ নৌপথে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ আছে। নৌযানগুলো সদরঘাট টার্মিনালে নোঙর করে রাখা হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি ভালো না হওয়া পর্যন্ত নৌ চলাচল বন্ধ থাকবে।
ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’-এর অগ্রভাগ গতকাল বুধবার মধ্যরাতের দিকে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ উপকূলে আঘাত হেনে উত্তর পূর্বদিকে এগিয়ে আসছে। এতে টেকনাফ সদর উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রাম ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঝড়ে সেন্টমার্টিনে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে সেন্টমার্টিনে গাছের নিচে চাপা পড়ে এক ব্যক্তি মারা গেছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উপকূলের বেশির ভাগ এলাকায় ঝোড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলছে। জোয়ারের পানি বেড়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ও গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুটের অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
নিম্নচাপটি উপকূল অতিক্রমের সময় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানান আবহাওয়াবিদেরা। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।


