ঢাকায় এসে বার্ষিক সম্মেলনে কর্মক্ষেত্রের নানা প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যা সংক্রান্ত ৫৩৪টি প্রস্তাব সমাধানের জন্য সরকারের কাছে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা।
এদিকে অধিবেশনের শেষ দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রশাসনের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেন।
মঙ্গলবার শুরু হওয়া ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৫’ শেষ হয় বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের সমাপ্তি অধিবেশন শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘সার্বিকভাবে আমি বলব আমি হ্যাপি। চেয়েছিলাম বৈঠকগুলো যেন ইন্টারঅ্যাকটিভ হয়, এ ধরণেরই হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা বলেছেন এবং মন্ত্রী-সচিবরা শুনেছেন, মন্ত্রী-সচিবরা বলেছেন। এজন্য কোন কোন সেশনে কিছু সময় বেশি লেগেছে।’
তিনি বলেন, ‘তিন দিনের সম্মেলনে ২২টি কার্য অধিবেশন ছিল, তাছাড়া ছিল উদ্বোধনী অধিবেশন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সমাপনী অধিবেশন।’
জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রতিটি কার্য অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। কার্য অধিবেশনগুলোতে ৩৯টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ডিসিরা। এতে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা অংশ নিয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সম্মেলন শুরুর আগে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে ২৫৩টি প্রস্তাব পেয়েছিলাম। তিন দিনের আলোচনায় আরো ২৮১টি আরো নতুন প্রস্তাব পাওয়া গেছে। মোট প্রস্তাব হয়েছে ৫৩৪টি। তবে আমাদের ধারণা প্রস্তাব সংখ্যা কিছুটা কমবে। যখন আমরা আবার পর্যালোচনা করব, কিছু প্রস্তাব ওভারলেপিং (দু’বার থাকা) থাকতেও পারে। সেক্ষত্রে আমরা সমন্বয় করে দেব। কোন প্রস্তাব অবাস্তবায়নযোগ্য হলেও আমরা বাদ দেই।’
‘সবচেয়ে বেশী প্রস্তাব এসেছে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সেশন থেকে, লিখিত প্রস্তাব সবচেয়ে বেশী এসেছে ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত এবং দ্বিতীয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত’ বলেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কিছু কিছু সিদ্ধান্ত রয়েছে পলিসি ইস্যু, সেগুলো বাস্তবায়ন করবে মন্ত্রণালয়। কিছু কিছু বাস্তবায়ন হবে বিভিন্ন সংস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে। সামগ্রিকভাবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পরিবীক্ষণ করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় ৩১টি প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘মুক্ত আলোচনা থেকে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার বিষয়গুলো সম্পর্কে অনুধাবন করতে পেরেছেন। প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা নয় নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে বেয়ন্ড দ্য বক্স (বৃত্তের বাইরে) আপনারা কাজ করবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একেকটি জেলার নিজস্ব বৈশিষ্ট রয়েছে। সেটি বিবেচনা করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এলাকা ভিত্তিক পণ্যগুলো প্রমোট করতে বলেছেন। সবার জন্য ঘর, সবার জন্য শিক্ষা, নৌপথের নাব্য ফিরিয়ে আনা, জলাধার সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন।’
এবার তিনদিনব্যাপি ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৫’ শুরু হয় গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


