রাষ্ট্র সব সময় দুর্বলের ওপর বাহাদুরি দেখায়। রাষ্ট্র সত্যিকারের বাহাদুর হলে ভূমিহীনদের শেষ সম্বল কেড়ে না নিয়ে, ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে সম্পদ উদ্ধার করে দেখাক। মন্তব্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘চা শ্রমিকবৃন্দ’ আয়োজিত চা-জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের প্রতি চা শ্রমিকদের বসবাসের জায়গা ও কৃষি জমিতে কোনো প্রকার অর্থনৈতিক অঞ্চল না করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান মিজানুর রহমান। বলেন, ছুটির দিনে চা শ্রমিকরা মজুরি পান না। এটা স্পষ্ট শ্রম অধিকার লঙ্ঘন। এজন্য রাষ্ট্রকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
আলোচনা সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, স্পেশাল ইকোনমিক জোন হবে ভালো কথা। কিন্তু এতে হতদরিদ্ররা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কেন? তাহলে এ উন্নয়ন কার জন্য? আপনারা পারলে বারিধারা এলাকায় একটি অর্থনৈতক প্রকল্প করুন।
বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে অবহেলিত জনগোষ্ঠী চা শ্রমিকরা। তারা কোনো রকম খেয়েপরে জীবনধারণ করে। এর মধ্যে তাদের পুরোপুরি নিঃস্ব করার উদ্দেশ্যে চা বাগানের পার্শ্ববর্তী কৃষি জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি একটা আত্মঘাতী প্রবণতা।
আদিবাসী বিষয়ক জাতীয় কোয়ালিশনের মহাসচিব অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, শ্রমিকের মূল শক্তি হলো ঐক্য। দাবি আদায়ের জন্য চা শ্রমিকদের একতাবদ্ধ থাকতে হবে। তাদের নূন্যতম মজুরি ৬৯ টাকা, যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।


