বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ছিটমহলে জমিদখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

chitmoholবাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের এক দিনের মাথায় বিরোধপূর্ণ একটি জমির দখল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে রোববার সকালে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ির দাশিয়ারছড়া ছিটমহলের কালিরহাট বাজারের পাশে।

আহতরা হলেন- জমির অন্যতম দাবিদার সিরাজ উদ্দিন (৭০), তার ছেলে এমদাদুল হক (৩৮), হারুন অর রশিদ (৩৫), আলেয়া বেগম (২৮), আবুল কালাম আজাদ (৩২), আনিসুল ইসলাম, আবু সিদ্দিক (২৮) ও সাহেরা বানু (২০) এবং আওয়াল খন্দকারের ছেলে আব্দুল হাই (৫০), ওবায়দুল হক (৫২), রাসেল (১৭) ও খায়রুল (২২) আহত হন। তাদের ফুলবাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহলের মধ্যে সবচেয়ে বড়গুলোর একটি দাশিয়ারছড়া, অন্য সব কটির মতো এটিও ১ অগাস্ট থেকে বাংলাদেশের, এর বাসিন্দারাও ভারতীয় থেকে বাংলাদেশি হয়েছেন। ছিটমহলের বাসিন্দাদের নানা বঞ্চনার মধ্যে ভূমি লেনদেনেরও প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে মুখেমুখে জমি হস্তান্তরের প্রচলনে এই ধরনের বিরোধের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। যে ১৮ শতক জমি নিয়ে এই সংঘাত, সেখানেই শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা তোলা হয়েছিল।

সংঘর্ষে আহত সিরাজ উদ্দিনের বড় ছেলে এমদাদুল হক বলেন, ওই জমি ৩০ থেকে ৪০ বছর আগে তারা আওয়াল খন্দকারের কাছ থেকে কিনেছিলেন। তিনি ও আমার বাবা খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। সে সূত্রে এটি কিনেছি। এরপর আমরাই ভোগ দখল করে আসছিলাম। ছিটের অন্য জমিগুলোর মতো এটিও রেজিস্ট্রেশন করিনি।

৮ থেকে ১০ বছর আগে আওয়াল খন্দকার মারা গেলে তার দুই ছেলে ওবায়দুল হক ও মকসুদুল হকের কাছ থেকে ভারতীয় স্ট্যাম্পে জমি লিখে নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন এমদাদ।

রোববার সকালে আওয়াল খন্দকারের ছেলেরা জমিটির দখল নিতে এলে সংঘাত বাঁধে। এ সময় উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা, বল্লম, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এতদিন ভারতের অধীনে থাকায় ছিটমহলের এসব জমির রেকর্ড সে দেশের হাতে রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৫ অগাস্ট দুদেশের ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বৈঠকে দুই দেশের পক্ষ থেকে জমির রেকর্ড বিনিময় করা হতে পারে। এর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মালিকানার প্রশ্ন নির্ধারণ করা হবে। আপাতত ভোগ দখলের ভিত্তিতে জমির মালিকানা বহাল থাকবে।

ফুলবাড়ী থানার ওসি বদরুদ্দোজা বলেন, এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে কোনো পক্ষ মামলা করেনি।

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ বলেন, এটি একটি বিছিন্ন ঘটনা। তারপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাশিয়ারছড়া ছিটে রোববার অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন