যেমন বলা, তেমন কাজ। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেন বলেছিলেন, তার প্রার্থী আরিফুল হক নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের চার নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে জয়ী হবে। সত্যিই তাই। রোববার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে লাটিম প্রতীক নিয়ে আরিফুল হক হাসান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আরিফ জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টারের ছেলে।
আরিফুর হক ৩,৩৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমির হোসাইন ভান্ডারি ঠেলাগাড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ২,৩৯৭ ভোট। এছাড়া ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ২,২৯৫ ভোট।
সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। সকালে দিকে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিশেষ করে শিমরাইল দারুছুন্নাত নেছারিয়া আমিল মাদ্রাসায় নারী ভোটারের র্দীঘ লাইন ছিল চোখে পড়ার মতো।
পাঁচটি কেন্দ্রের প্রতিটি কেন্দ্রে এক ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর প্রহরা ছিল। টহলে ছিল র্যাব ও বিজিবি সদস্য।
এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১৪,১০৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭,১৮১ জন আর মহিলা ভোটার ৬,২২৫ জন। পাঁচটি কেন্দ্রের ৩৭টি বুথে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোট পড়েছে ৫৭.৯৮ শতাংশ।
অন্য প্রার্থীরা ছিলেন- কেন্দ্রীয় ওলামা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন ভান্ডারী (ঠেলাগাড়ি), সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম (ঘুড়ি), ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ (ব্যাডমিন্টন) ও রাসেল (টিফিন ক্যারিয়ার)।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই বুধবার নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার আসামি এবং পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া নূর হোসেন বারাসাতে আদালতে হাজিরার দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমি তো দেশে ফেরত যেতে চাই, আমি আগেও বলেছি, আমি দেশে যেতে চাই। কিন্তু কেন নিচ্ছে না? সরকার আমাকে নিতে ভয় পায়। নারায়ণগঞ্জে আমার এলাকায় উপনির্বাচন হচ্ছে। আরিফুল হক হাসানকে ওই উপনির্বাচনে আমিই দাঁড় করিয়েছি। আপনারা নিশ্চিত থাকুন সে পাস করবে। ২৩ বছরে আমাকে কেউ হারাতে পারেনি।


