বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আনোয়ারের জামিন, মিন্টুর শুনানি হয়নি, কারাগারে আমান

bnp-leaders3আত্মসমর্পণের পর জামিন পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার। তবে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর মামলার মূল নথি না থাকায় তার জামিন আবেদনের শুনানি হয়নি। অন্যদিকে ৫৬ মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমানের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আমান উল্লাহ আমান আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী ৪২ মামলাসহ মোট ৭১ মামলায় এবং এমকে আনোয়ার ৯ মামলায় এবং আব্দুল আওয়াল মিন্টু এক মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।

মামলাগুলোর মধ্যে আমানের সাভার থানার দুটি মামলায় ঢাকা সিজেএমএম কোর্টে বেলা পৌনে ২টায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলা দুটিতে তিনি পূর্বে জামিনে থাকায় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হক শ্যামল তার জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর ঢাকা সিএমএম আদালতে ৬৩টি মামলায় আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন করেন তিনি।

৬৩ মামলার মধ্যে ৮টি মামলায় মূল নথি মহানগর দায়রা জজ আদালতে থাকায় ওই মামলায়গুলোয় নথি প্রাপ্তির পর শুনানির দিন ঠিক করা হয়। অপর ৫৫টি মামলায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে এমকে আনোয়ার ৯ মামলার মধ্যে দুটি মামলা নথি মহানগর দায়রা জজ আদালতে থাকায় ওই মামলায়গুলোয় নথি প্রাপ্তির পর শুনানির দিন ঠিক করা হয়। অপর সাতটি মামলায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আসামি পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, খোরশেদ আলম, ওমর ফরুক ফারুকী, গোলাম মোস্তফা খান, মোসলেহ উদ্দিন জসিম, মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ আইনজীবী জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। বেলা আড়াইটা থেকে বেলা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আসামিপক্ষে আইনজীবীরা আসামিরা বয়স্ক, সাবেক মন্ত্রী ইত্যাদি উল্লেখ করে জামিন মঞ্জুরের আবেদন করেন। আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, আসামিদের আপিল বিভাগ জামিন দেয়ার জন্য নিম্ন আদালতকে জামিন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঢাকা সিএমএম আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আলী মাসুদ শেখ, আলমগীর কবির রাজসহ ১০ জন বিচারক পৃথকভাবে জামিন আবেদনের পর শুনানি করেন। শুনানি শেষে এমকে আনোয়ার এবং আমানের সাত মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন এবং আমানের অপর ৪৮ মামলায় জামিন নাকচ করেন।

এরপর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আমানের অপর ছয় মামলায় আত্মসমর্পণপূর্বক জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা মামলাগুলোয় চার্জশিট হওয়ায় জামিন আবেদন নাকচ করেন।

গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চ আমানকে ৪২টি এবং এমকে আনোয়ারকে ৯টি এবং মিন্টুকে একটি মামলায় চার সপ্তাহের আগাম জামিন প্রদান করেন। হাইকোর্ট বিভাগের উক্ত আগাম জামিনের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন বাতিলের জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের শুনানি শেষে গত ২৭ জুলাই প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ জামিন বাতিল করে সাত দিনের মধ্যে বিএনবপির এই নেতাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন