সালমান খানের ‘বজরঙ্গী ভাইজান’ মুক্তির পর নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন গীতাও। তার আশা বাস্তবের কোনো বজরঙ্গী এমনিভাবে তার পাশে এসে দাঁড়াবেন যার চেষ্টায় নিজের হারানো পরিবারকে খুঁজে পাবেন-ফেরত যাবেন নিজ জন্মভূমে!
মূক, বধির মুন্নীকে পাকিস্তানে তার নিজ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে কত না দুর্ভোগ সহ্য করেছিলেন রুপালি পর্দার বজরঙ্গী ভাইজান পবন মানে বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। এই মুন্নী উদ্ধারের মাধ্যমে গোটা উপমহাদেশের দর্শকদের মন জিতে নিয়েছেন বজরঙ্গী সালমান। কিন্তু বাস্তব জীবনেও আজ একজন বজরঙ্গীর ভীষন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। যিনি গত ১৪ বছর ধরে পাকিস্তানে আটকে থাকা গীতাকে এবার ভারত ফিরিয়ে আনতে পারবেন। এই উপমহাদেশে আছেন কি এমন কোনো সাহসী পুরুষ? এই প্রশ্ন আমার নয়-ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি’র।
পাকিস্তানের করাচি নগরীতে এক মূক বধির কিশোরীর সন্ধান পাওয়া গেছে। গত ১৪ বছর আগে নয় বছরের এক নি:স্ব মেয়েকে খুঁজে পায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাঞ্জাব প্রদেশের সীমান্ত সেনারা। তারা শিশুটিকে লাহোরের সমাজকল্যানমূলক সংস্থা ‘ইদি সেন্টার’য়ের কাছে তুলে দেয়। তারা কয়েক বছর ধরে মেয়েটির পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু বোবা মেয়েটি নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে না পারায় তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তারা তাকে করাচির মানব দরদী নারী বিলকিস ইদির কাছে পাঠিয়ে দেয়। ‘মাদার অব পাকিস্তান’ নামে পরিচিত বিলকিস ওই মেয়েটির একটি নাম দেন গীতা। গীতা এখন ২৩ বছরের যুবতী।
ধারণা করা হয়ে থাকে নয় বছরের গীতা ভুল করে ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে এসেছিল। কিন্তু কথা বলতে না পারায় তার পক্ষে নিজের পরিচয় বা পরিবারের কারো কথা জানানো সম্ভব হয়নি। সে কেবল ভারতের মানচিত্র দেখাতে পেরেছে যা থেকে অনুমান করা হয় সে ভারতীয় নাগরিক।
ভারতের মানচিত্রে গীতা একবার ঝাড়খণ্ড এবং তেলেঙ্গানার দিকে নির্দেশ করেছিল। আকার ইঙ্গিতে সে আরো জানিয়েছে, তার সাত ভাই আর চার বোন রয়েছে। সে বিভিন্ন সাময়িকী থেকে কিছু হিন্দি শব্দও দেখাতে পেরেছে। কিন্তু এসব টুকরো টুকরো অপর্যাপ্ত তথ্য দিয়ে তার পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়নি। শিশু গীতা বিলকিসের আশ্রমেই বড় হয়েছেন। মহতী ওই নারী আশ্রয় কেন্দ্রে গীতার জন্য আলাদা প্রার্থণা ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। সেখানে শোভা পাচ্ছে হিন্দু দেব দেবীদের বর্ণিল চিত্র। গীতা আবার হিন্দু দেবতা গনেসের ভক্ত।
পাক-ভারতে বলিউডের ‘বজরঙ্গী ভাইজান’ চলচ্চিত্রটি ঝড় তোলার পর গীতাকে ভারতে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে নতুন উদ্যোগ শুরু করেছে সংস্থাটি। ফেসবুকে গীতার ওপর খোলা হয়েছে নতুন পেইজ।
এ সম্পর্কে সংস্থার কর্মকর্তা ফয়সাল ইদি জানান, গতবছর ভারতীয় দূতাবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা গীতার সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা তার ছবি আর বিভিন্ন তথ্য নিয়ে গেছেন। কিন্তু তারা পরে আর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।’ ভারতের এক সাংবাদিকও একবার গীতার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। কিন্তু গীতার পরিবারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এই ফাউন্ডেশনটি গীতাকে এক হিন্দু ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু এ বিয়েতে রাজি হয়নি গীতা। তিনি নিজের বাবা মায়ের কাছে ফেরার পরই বিয়ে করবেন বলে জানিয়েছেন।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


