বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আইটেম সং: পিছিয়ে থাকবে কেন বাংলা

ritu-655x360উত্তম-সুচিত্রা হয়ে ছোটোবউ, মেজবউ আর বড়বউয়ের হাত ধরে বাংলা ছবি যখন আরও এগোল, তখন থেকেই কমার্শিয়ালিজ়ম ব্যাপারটি তার অস্থিমজ্জায় বসে গেল। আগে যে ফিল্মের ব্যবসা নিয়ে প্রযোজকরা চিন্তা করতেন না, এমন নয়। কিন্তু, ব্যবসার জন্য এভাবে নিশ্চয়ই মাথা খুঁড়ে মরতেন না। আয়ের রাস্তা খুলত ছবি মুক্তির পর। কিন্তু, এখন তো সে সব অনেক দূরের গল্প। ছবি রিলিজ়ের আগেই ভাড়ারে জমতে শুরু করে লাভের টাকা। আর লাভের অংক বাড়াতে গেল যে আইটেম সং একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা প্রযোজকরা ভালেমতোই জানেন।

বলিউডে এর আনাগোনা অনেকদিন। টলিউডও পিছিয়ে ছিল না। ক্যাবারে ডান্স বহু বাংলা ছবিতেই দেখা গেছে। কিন্তু নির্ভেজাল আইটেম ডান্স, তা বোধহয় বিংশ শতাব্দীর আগে চোখে পড়েনি। এখন তো বাংলা কমার্শিয়াল ছবির নামী হিরোইনরাও কোমর দোলাচ্ছেন।

যতই ঘুড়ি ওড়াও: “বচ্চন” ছবিতে ছিলেন না শুভশ্রী। জিতের নায়িকা হয়েছিলেন সায়ন্তনী। কিন্তু, ছবিতে একটি আইটেম সংয়ে দেখা দিয়েছিলেন তিনি। “যতই ঘুড়ি ওড়াও, লাটাই তো আমার হাতে”। ওই একটা গানে ছবিতে না থাকা সত্ত্বেও নজর কেড়েছিলেন শুভশ্রী।

কালা কই গেলি: আদ্যোপান্ত রাজনৈতিক ছবি প্রলয়। তাতে কী। ছবিতে যদি একটা ঝিনচ্যাক আইটেম নাম্বার না-ই থাকল, তাহলে ছবি ব্যবসা করবে কী করে? আজকাল ক’জন ছবি দেখতে আসে? আইটেম ডান্স না থাকলে ছবির ব্যবসা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। অতএব এসে গেলেন পূজা বসু। রাজনৈতিক ছবিতে জুড়ে গেল আইটেম ডান্স “কালা কই গেলি”।

মেরে অঙ্গ অঙ্গ মে: লক্ষ্ণীকে পুড়িয়ে মেরেছিল গণেশ ভুতোড়িয়া। অস্বাভাবিক মৃত্যুতে ভূত হয়ে যায় লক্ষ্ণী। আর যখন চৌধুরীবাড়ি কিনতে আসে গণেশ, তখন ভূত লক্ষ্ণী চড়াও হয় তার উপর। কিন্তু, সরাসরি কি আর ঘাড়ে চাপা যায়? তার জন্য দরকার ছলাকলা। তাই তো মনামী করেছিলেন “মেরে অঙ্গ অঙ্গ মে, আগ লাগায় দে….. বলমা……”

কোকাকোলা: পুরোদস্তুর কমার্শিয়াল ছবি। ফলে আইটেম সং থাকাটা অবাক করার মতো বিষয় নয়। অবাক হওয়ার বিষয়টি হলেন শ্রাবন্তী। লক্ষ্ণী মেয়ে শ্রাবন্তী এই ছবির একটি গানে একেবারে অন্য অবতারে হাজির হয়েছিলেন। গানটিও ছিল তেমনই জবরদস্ত। “কোকাকোলা”। সে সময় এই গানটি প্রচুর হিট হয়েছিল।

পেয়ারেলাল : “দুই পৃথিবী”-র এই গানটি সে সময় আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। বরখা বিস্ত সেনগুপ্তের “পেয়ারেলাল” যে কতজনের দিলের উইলে তাঁর নাম লিখেছিল তার ইয়েত্তা নেই। বরখার নাচ আর সমিধ-ঋষির কম্পোজ়িং তখন সর্বত্র বাজছে। পুজোর প্যান্ডেলে “পেয়ারেলাল”, পার্টিতে “পেয়ারেলাল”, লং জার্নি? তাতেও “পেয়ারেলাল”।

ভজগৌরাঙ্গ: বিতর্ক দিয়ে শুরু হয়েছিল। কিন্তু, অচিরেই তা মিটে বসে গেল বিন্দাসের তকমা। “চ্যালেঞ্জ” ছবির এই গানটি প্রকাশ পাওয়ার পর সবাই বলেছিল, “ভজগৌরাঙ্গ”-তে নিয়ে উপহাস? কিন্তু, দেবের ক্রেজ়ে সেই বিতর্ক উড়ে গিয়ে সর্বজন গ্রাহ্য হয়ে গেল “ভজগৌরাঙ্গ কহগৌরাঙ্গ লহগৌরাঙ্গের নাম রে….”

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন