কয়েকদিন ধরে ভারতে গত ইন্টারনেটে পর্নো সাইট দেখতে না পাওয়ার জেরে দেশটিতে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমেও উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়। এমনই জানিয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
গত শনিবার মধ্যরাত থেকে ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে পর্নো সাইট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। সোমবার রাতেও বিভিন্ন সাইটে লগ ইন করলে ‘ব্লাংক পেজ’ দেখাচ্ছে। যদিও দেশটির সরকার এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে আট শতাধিক বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।
পর্নোসাইট সাইট বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ না জানিয়ে বরং একে জোর করে চাপানো সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন অনেকে। ‘ডেইলি ও’-তে প্রকাশিত অজস্র ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর টুইটে এমন প্রতিক্রিয়াই ফুটে উঠেছে। চিত্রপরিচালক রামগোপাল ভার্মা এই সিদ্ধান্তকে রীতিমতো জঙ্গি আচরণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অভিনেতা উদয় চোপড়া সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, এই সিদ্ধান্তে যৌন সহিংসতা কমবে কি কমবে না, তা নিয়ে।
এদিকে সাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। বলিউডের পরিচালক রামগোপাল ভার্মা টুইটারে বলেন, ‘একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পর্নোর আনন্দ উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত করার মানে একজন মানুষের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করার শামিল।’ রোববার থেকে ফেসবুক ও টুইটারে ‘পর্নো নিষিদ্ধ’ নামক হ্যাশট্যাগটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। পর্নো নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুরকার বিশাল দাদলানি টুইট করে বলেন, ‘সেই সরকারের থেকেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে যাদের দলের সাংসদরা সংসদে বসে পর্নো সাইট দেখতে গিয়ে ধরা পড়ে যান।’ অভিনেতা ও প্রযোজক উদয় চোপড়া টুইটারে বলেন, ‘ভারতে নিষিদ্ধ হলো পর্নো সাইট। কিন্তু এই পদক্ষেপে কি এদেশে শারীরিক নির্যাতন, হেনস্তা বা ধর্ষণের মতো ঘটনা কমাতে পারবে?’
এর আগে গত জুলাই মাসেই ভারতে পর্নো সাইট বন্ধ করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এইচ এল দাত্তু এক আদেশে বলেছিলেন, ‘কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি ঘরে বসে পর্নো সাইট দেখেন, তাহলে তাঁকে আটকানোর উপায় নেই। জোর করে তাঁকে আটকানো মানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২১+ আইনের অবমাননা করা।’
ভারতের তথ্য মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় টেলিকম সূত্রে বলা হয়েছে, বিষয়টি যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে রয়েছে তাই আপাতত সাইটগুলো লগ ইন করা যাচ্ছে না। ২০১৩ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা চলছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মোট ৮৫৭টি পর্নো সাইট নিষিদ্ধ করার জন্য ইন্টারনেট সেবাদাতাদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
এর আগে ভারতে পর্নো সাইটগুলো ব্লক করার জন্য আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী বিজয় পানজওয়ানি। সম্প্রতি সাইটগুলো দেখা না যাওয়ায় তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘দেশে ৮৫৭টি পর্নো সাইট নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। তিন বছর পর সরকার এই ধরনের পদক্ষেপ নিল।’
নয়াদিল্লি প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


