ঢাকার হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীকে চলন্ত বাস থামিয়ে গুলিতে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। ফতুল্লায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ভূইগড় এলাকায় সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বোমা ফাটিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তাতে উঠে ওই ব্যবসায়ীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত নুরুল ইসলাম (৪২) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী প্রসন্ন নগর এলাকার হানিফ হাজীর ছেলে। তিনি ফতুল্লার রেলস্টেশন এলাকায় ভাড়া থাকতেন। ঢাকার হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজায় তার পপুলার ইলেকট্রনিক্স নামে মোবাইল ফোনের দোকান রয়েছে।
কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে বাসের অন্য কোনো যাত্রী হামলার শিকার না হওয়ায় লক্ষ্য যে ছিলেন নুরুল, তা স্পষ্ট।
ঢাকা থেকে উৎসব পরিবহনের একটি বাসে নুরুল নারায়ণগঞ্জ ফিরছিলেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে লিংক রোডের মাহমুদপুর এলাকায় সামাদ বানু সিএনজি স্টেশনের সামনে ওই বাসটি আটকানো হয় বলে নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরফুদ্দিন জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “প্রথমে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাসের গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা। এসময় কয়েকজন বাসে উঠে নুরুলের বুকে গুলি করে তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেমে যায়।”
এরপর নুরুলকে নিয়ে বাসটি শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান চালক। তবে চিকিৎসকরা দেখে বলেন, নুরুল মারা গেছেন।
বোমার বিস্ফোরণে বাসটির সামনের কাচ ভেঙে গেছে বলে জানান সহকারী পুলিশ সুপার।
প্রত্যক্ষদর্শী বাসযাত্রী মো. লিটু জানান, “অতর্কিতভাবে মুহুর্মুহু হাতবোমা ফাটিয়ে দুর্বৃত্তরা বাস থামায়। এরপর দুটি মোটর সাইকেল আরোহী ৪/৫ জন যুবক বাসে উঠে নুরুল ইসলামকে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে।”
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সোহেল রানা বলেন, গুলিতে এই ব্যবসায়ী সঙ্গে সঙ্গে প্রাণ হারান। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন জানান, নুরুল ইসলাম ব্যবসার টাকা নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। কাছের কেউ হয়ত টাকার বিষয়টি জানতে পেরে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
নিহতের স্বজনেরা জানান, নুরুল ইসলাম ঢাকা থেকে উৎসব পরিবহনের একটি বাসে করে নারায়ণগঞ্জ ফিরছিলেন। বাসটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার মাহমুদপুর এলাকাতে আসলে কয়েকজন অস্ত্রধারী বাসটি গতিরোধ করে বাসে উঠে নুরুল ইসলামকে মারধর করে। এরপর তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আরাফাত জাহান ও মো. জয়নাল জানান, দুর্বৃত্তরা উৎসব পরিবহনের একটি বাস আটক করেছিল। পরে ওই বাস থেকে এক ব্যক্তি নিচে লাফিয়ে পড়ে। তখন দুর্বৃত্তরা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। বাস থেকে লাফিয়ে পড়া ওই ব্যক্তিকে পরে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোখলেছুর রহমান বলেন, ঘাতকদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডেই গত বছর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
তার আগে এই সড়ক থেকেই অপহরণ করা হয়েছিল পরিবেশ আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এ বি সিদ্দিককে। পরে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা/নারায়ণগঞ্জ
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


