বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বের দশ অপরাধপ্রবণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

Control-Riskআন্তর্জাতিক একটি সংস্থার হিসেবে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি অপহরণপ্রবন ১০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম আসার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বলছে, বাংলাদেশের অপহরণ মামলাগুলোর ৮৪ শতাংশই আসলে প্রেমঘটিত। অর্থাৎ এগুলো মূলত প্রেমের টানে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এবং বিধি-বিধানের কারণেই পুলিশকে প্রেমিকদের বিরুদ্ধে ওইসব মামলা নিতে হয়।

একইসঙ্গে কন্ট্রোল রিস্ক নামের ওই সংস্থার প্রতিবেদনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অগ্রহনযোগ্য বলেও মনে করছে পুলিশ। এই বাহিনীর ভাষ্য, কোন ধরনের পরিসংখ্যান নিয়ে তাদের (কন্ট্রোল রিস্ক) মন্তব্য তুলে ধরেছে, সেটা অস্পষ্ট। বিধায় জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার ৩ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘কন্ট্রোল রিস্কের প্রতিবেদন অপহরণের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে ঢাকার কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদের প্রতি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে কন্ট্রোল রিস্কের রিপোর্টটি অন্যান্য সংস্থার রিপোর্টের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই রিপোর্টটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপহরণ নিয়ে পৃথিবীর নানা দেশের নানা সংস্থার রিপোর্ট রয়েছে। পর্যবেক্ষণে দেখা যায় লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সতর্ককারী সংস্থা হেল্প বিল্ড পিস-এর রিপোর্টে অপহরণের অপরাধ সংঘটনে ঝুঁকিপূর্ণ শীর্ষ দশ দেশে বাংলাদেশের নাম নেই। ৬ মার্চ অষ্ট্রেলীয় সরকার প্রণীত ‘কিডন্যাপিং থ্রেট ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে অপহরণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নাম নেই। লন্ডনভিত্তিক আরেকটি সংস্থা রেড ২৪ ২০১৫ সালে যে শীর্ষ অপহরণ আক্রান্ত দশটি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানেও বাংলাদেশের নাম নাই। নেশন মাস্টার প্রণীত রিপোর্টে দেখা যায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩।

পুলিশ বলছে, পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই সংস্থাগুলোর রিপোর্টে আফগানিস্তান, কলাম্বিয়া, ইরাক, সোমালিয়া, উত্তর আফ্রিকার সাহেল-সাহারা, ভারত, পাকিস্তান, ভেনেজুয়েলা, ফিলিপাইন এবং ইয়েমেনকে অপহরণপ্রবণ শীর্ষ দশটি দেশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বাংলাদেশে অপহরণের ঘটনার বিষয়ে বলা হয়েছে, একেক দেশে অপহরণের সংজ্ঞা এবং পরিসংখ্যান একেক রকম। অষ্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যানে মুক্তিপণ বা চাঁদা আদায়, আদর্শগত কারণে, রাজনৈতিক কারণে এবং জলদস্যুদের দ্বারা অপহরণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পৃথিবীর নবম সর্বোচ্চ জনবহুল দেশ বাংলাদেশে প্রেমঘটিত কারণে পালিয়ে গেলেও সেক্ষেত্রে অপহরণ মামলা হয়। এখানে প্রেমিক কর্তৃক প্রেমিকাকে অপহরণের মামলা মোট অপহরণ মামলার ৮৪ শতাংশ। বিধি বিধানের কারণেই বাংলাদেশ পুলিশ ওই প্রেমিকদের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা নিয়ে থাকে। সেটা পরিসংখ্যানেও অন্তর্ভুক্ত হয়।

২০১৩ সালে এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছিলেন, নারী নির্যাতন মামলাগুলোর ৮০ শতাংশই মিথ্যা মামলা। তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ওই অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, যৌতুক নিয়ে যেসব মামলা হয়, তার ৯০ শতাংশই মিথ্যা।

বাংলাদেশে ৮০ শতাংশ আসামি খালাস পায় উল্লেখ করে কামরুল তার জন্য মিথ্যা মামলাকেই দায়ী করেছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন