র্যাগের নামে নবীন শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক নির্যাতন করা হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা দাঁড় করিয়ে রাখা, সহপাঠীদের দিয়ে অন্য সহপাঠীকে মারধর করতে বাধ্য করা, ক্যান্টিন ও লাইব্রেরি ব্যবহার করতে না দেওয়া, যৌন হয়রানিমূলক কটূক্তি— শিক্ষার্থীদের ওপর এ রকম নানা ধরনের নির্যাতন করা হচ্ছে। মিরপুরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে এটি নৈমিত্তিক ঘটনা।
কলেজটির ছেলে ও মেয়েদের হল দু’টির ২০১৪-১৫ সালের আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত এ ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুমে ও হলে ডেকে নিয়ে গিয়েও নির্যাতন করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। দ্য রিপোর্টের পক্ষ থেকে কলেজ অধ্যক্ষ ড. ইকবাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে র্যাগের নামে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের এ অভিযোগকে প্রথমে তিনি ‘বোগাস’ বলে উড়িয়ে দিলেও, পরে ভর্তির পরপর ‘ইনমরমালি র্যাগ’ দেওয়া হয় বলে জানান।
ডেন্টাল কলেজের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, এ বছরের জানুয়ারি মাসে ক্লাস শুরুর পর কলেজ মিলনায়তনে সব শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে র্যাগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে ছেলে ও মেয়েদের দু’টি হলে প্রতিনিয়ত র্যাগের নামে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষাবর্ষের ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছে। কখনো কখনো রাতে ৪-৫ ঘণ্টা ধরেও চলে র্যাগের নামে এই অমানুষিক নির্যাতন। গত সপ্তাহে হল দু’টিতে চারবার এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। শুধু হল নয়, ক্লাস রুমেও মাঝে মাঝে নবীন শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের হলের আবাসিক একাধিক শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক) বলেন, র্যাগিংয়ের নামে বড় ভাই-আপারা আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখেন। কখনো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেন। কখনও আবার ২-৩ ঘণ্টা এক পা ও এক হাত তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়।
তারা আরও বলেন, আমাদের কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে নাচতে বলা হয়। কখনো সহপাঠীদের দিয়ে অন্য সহপাঠীকে মারধর করানো হয়। ক্যান্টিন ও লাইব্রেরি ব্যবহার করতে বারণ করা হয়।
কলেজটির একজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা অনাবাসিকরাও র্যাগের শিকার হতে রক্ষা পাচ্ছি না। ক্লাস মনিটরকে ফোন দিয়ে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয় কাকে র্যাগ দেওয়া হবে। মনিটর আমাদের জানিয়েও দেন। এর মানে আগে থেকেই জেনে যাচ্ছি, আমাদের কবে এ সব অমানুষিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কিন্তু কি করার? ক্লাস করতে হলে তো ক্যাম্পাসে যেতেই হবে।
তিনি আরও বলেন, র্যাগিংয়ের সময় মোবাইল ফোন রেখে যেতে হয়। তাই এর কোনো প্রমাণও থাকে না। আবার কি ধরনের নির্যাতনের শিকার হব আগে থেকে তারও কোনো ধারণা থাকে না। র্যাগের নামে এই নির্যাতনে আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছি।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ অনেকবার এ নির্যাতন বন্ধের ব্যাপারে তারা কলেজ অধ্যক্ষকে জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. ইকবাল হোসেন প্রথমে বলেন, এটা বোগাস অভিযোগ।
এরপর এ প্রতিবেদক কলেজ অধ্যক্ষকে ভর্তির পরপর নবীন শিক্ষার্থীদের কলেজ মিলনায়তনে ডেকে নিয়ে র্যাগের নামে নির্যাতন করা হয়েছে এবং গত সপ্তাহে হল দু’টিতে চারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে জানালে তিনি বলেন, সব প্রতিষ্ঠানেই ভর্তির পর র্যাগ দেওয়া হয়। ডেন্টাল কলেজেও ভর্তির পর প্রথমদিকে ইনফরমালি এটা হয়। কিন্তু এতদিন পর র্যাগ দেওয়া হবে তা তো হতে পারে না। আপনার কাছে যারা অভিযোগ করেছে তাদের আমার ফোন নাম্বার দিয়ে দিন। অভিযোগ করলে তাদের নাম-পরিচয় গোপন রেখে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্য রিপোর্ট অবলম্বনে-
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


