পনের বছরে পা রেখেছেবেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টস। গত ১৪ এপ্রিল বর্ষপূর্তি হলেও এর উপলক্ষে বেঙ্গলে এখনও চলছে নানা আয়োজন। এরই অংশ হিসেবে ৭ আগস্ট শুরু হচ্ছে শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ভাস্কর্য শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনী।
‘নামিল শ্রাবণ সন্ধ্যা’ শীর্ষক পক্ষকালব্যাপী প্রদর্শনী ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায় বেঙ্গল শিল্পালয়ে (বাড়ি: ২৭৫/এফ, রোড: ২৭ পুরাতন, ধানমন্ডি, ঢাকা) উদ্বোধন হবে। পরিবেশবাদী ইনাম আল হক, আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও চিত্রশিল্পী রোকেয়া সুলতানা যৌথভাবে এ প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করবেন।
প্রদর্শনীতে ভাস্কর্যের সংখ্যা ৫০টি। প্রদর্শনী আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর জন্ম ১৯৪৮ সালে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। প্রিয়াভাষিণী ২০১০ সালে শিল্প ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্স শিল্পী হিসেবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশে ভাস্কর্যচর্চার পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। মাধ্যমের ব্যয়সাপেক্ষতা, সুপিরসর স্থানের অভাব, সময় ও শ্রমসাপেক্ষ চর্চা পদ্ধতির তুলনায় অনিশ্চিত বাজার ইত্যাদি কারণে ভাস্কর্যচর্চার পরিসর সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়নি। তবুও ভাস্কর্যের চর্চা অব্যাহত আছে এবং কয়েকজন ভাস্কর নবীন মাত্রা নির্মাণের অভিপ্রায় নিয়ে নানা নিরীক্ষাধর্মী কাজ করে চলেছেন।
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী কিন্তু চর্চা করে যাচ্ছেন অক্লান্তভাবেই লাভ-ক্ষতির হিসাব আর প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের অভাবকে এক পাশে সরিয়ে রেখেই।
তিনি একজন প্রকৃতির পরিব্রাজক, প্রকৃতির ভাস্কর, তবে সবকিছু ছাপিয়ে তিনি বোধহয় অনুভূতির ভাস্কর।
আমাদের চিরচেনা প্রকৃতির নানা তুচ্ছ আর প্রচ্ছন্ন অবয়বে তিনি যে বিভাসিত বিন্যাসের সন্ধান করেন এবং তারপর সেই অবয়বে নিজের বোধ আর শিল্পিত রূপকল্পের সম্মিলন ঘটিয়ে যে অমর্ত্য রূপ প্রদান করেন।
আর সেই রূপে যে বেগ থাকে, আবেগ থাকে, প্রণয় থাকে, মায়া থাকে, বেদনা থাকে, আলোর আলোড়ন থাকে সেটি তো তার অভ্রান্ত অনুভূতির কারণেই।
প্রিয়ভাষিণীর নির্মাণশৈলী মাধ্যম হিসেবে ভাস্কর্যকে আমাদের সামনে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো অতি তুচ্ছ বিষয়কে আশ্রয় করে তিনি যা সৃজন করেন তা শিল্পগুণে ও সৃজনধর্মিতায় হয়ে ওঠে অসামান্য।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদ্যেও তিনি আশ্রয় খুঁজে পান, আশার বসতি গড়ে তোলেন, অনিঃশেষ সৃষ্টির জন্য অনিবারিত উদ্দীপনার জোগান পান।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply