বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে দুই কথা শোনালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

CTG_BGMEA_EXPOতৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তা আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের পরামর্শের প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের সুবিধা বাড়াতে বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট চট্টগ্রামের রেডিসন হোটেলে ‘বাংলাদেশ এ্যাপারেলস অ্যান্ড সেফটি এক্সপো’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটও ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বার্নিকাট তৈরি পোশাক খ্যাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর উপর জোর দেন।

“একর্ড, অ্যালায়েন্স, বিজিএমইএ ও সরকার সমন্বিতভাবে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর উন্নয়ন বিষয়ে কাজ করছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট। তবে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়ে আরও যত্নশীল হতে হবে মালিকদের। তবেই এদেশের পোশাকশিল্প আরও সামনের পথে এগুবে।”

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “১৯৯৬ সালে সিঙ্গাপুরে প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের কনফারেন্সে উন্নত দেশগুলো স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার জন্য সম্মত হয়েছিল। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে বেশ কিছু এ্যাকশন প্ল্যান নেওয়া হয়েছিল। দুঃখের বিষয় পরবর্তীতে এর কোনোটিই বাস্তবায়ন করা হয়নি।

“বিশ্বের অনেকগুলো উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করছে। এর মধ্যে রয়েছে কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন, কোরিয়া ও ভারত। দুঃখের বিষয়, এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নেই।”

“যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আমরা অনেক বেশি শুল্ক দিয়ে আসছি, ১৬ শতাংশ। গত ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার শুল্ক দেওয়া হয়েছে। অন্য অনেক দেশ এর চেয়ে কম শুল্ক প্রদান করে,” বলেন তোফায়েল।

বাংলাদেশের শিল্প কারখানায় কর্মপরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেড় বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা বাতিল করেছিল।

বার্নিকাট ‘ব্র্যান্ডিংয়ের’ উপর জোর দিতে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়ে কারখানায় শ্রমপরিবেশের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

রানা প্লাজা ধসের পর শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য কারখানাগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের যে প্রস্তাব ক্রেতা রাষ্ট্রগুলো দিয়ে আসছে, তারও সমালোচনা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে ২০১২ সালে ১৩৮টি ট্রেড ইউনিয়ন ছিল, যা বেড়ে এখন ৩২৫।

এনিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে তোফায়েল বলেন, “পৃথিবীর অনেক বড় বড় দেশের কারখানাগুলোতেই ট্রেড ইউনিয়ন নেই। এসব দেশের কেউ কেউ আবার আমাদের উপরে ট্রেড ইউনিয়ন করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।”

আরোপিত সব শর্ত মানার পরও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শ্রমিকদের জীবন মানের উন্নয়নে তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়ানোর উপর জোর দেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “এ্যাকর্ড ও এ্যালায়েন্সের পরিদর্শনে মাত্র ৩৪ টি কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে বড় সমস্যা ধরা পড়েছে এমন কারথানা ২ শতাংশেরও কম। রানা প্লাজা ধসের পর এদেশে একটি কারখানাতেও সমস্যা হয়নি।”

মুন্সিগঞ্জের মতো চট্রগ্রামেও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ২০২১ সালে পোশাক শিল্পের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার জন্য কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “যে শিল্প থেকে দেশের রপ্তানির ৮০ শতাংশ আসে, সেই শিল্পে দেশের মোট উৎপাদনের মাত্র ৫ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হয়। সম্প্রতি কাজ শুরু করা ২৩৩টি কারখানাতে এখনও গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়নি।”

একই সঙ্গে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাবস্থারও উন্নয়নের দাবি জানান বিজিএমইএ সভাপতি।

অনুষ্ঠানে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট মেম্বার ও ট্রেড মনিটরিং গ্রুপ ফর সাউথ এশিয়ার চেয়ারম্যান সাজ্জাদ করীম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদন, চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিন বক্তব্য রাখেন।

সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন