বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

‘ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় সংখ্যালঘু নির্যাতন ও জমি দখল’

Hindu-Boudho-oikko_Newsworldbdবাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের পাশাপাশি সম্পত্তি দখল হয় বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এসব ঘটনার সঙ্গে সরকারি দলের সাংসদ, মন্ত্রী পরিষদের প্রভাশালী সদস্যরাও জড়িত আছেন বলে সংগঠনটির অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রানা দাস গুপ্ত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে রাজনৈতিক সহিংসতার রেশ কাটতে না কাটতেই সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে দুর্বৃত্তরা আবারো ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর, দোকানপাট, জায়গা-জমি, দেবোত্তর গির্জা ও বিহারের সম্পত্তি জবর দখলের উন্মত্ততায় মেতেছে। সরকারি দলের সাংসদ থেকে শুরু করে মন্ত্রী পরিষদের প্রভাবশালী সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: ঠাকুরগাঁওয়ের বর্তমান সাংসদ দবিরুল ইসলাম ও তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম জেলার বালিয়াডাঙ্গা উপজেলার রনবাগে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল ও দখলের অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন।’

রানা দাস গুপ্ত বলেন, পিরোজপুরের সাংসদ এমএ আওয়ালের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর দোকান দখলের অপপ্রয়াসের অভিযোগ উঠেছে। সংসদের হুইপ মাহবুব আরা গিনির বিরুদ্ধে গাইবান্ধার রামকৃঞ্চ মিশন ও আশ্রমের জমি দখল-গাছকাটার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও ফরিদপুরে মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী এক মন্ত্রী জোরপূর্বক বায়নাপত্রে সই আদায় করে বাড়ি ও মন্দির ভেঙে ফেলে তা দখল করে নেয়। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানাধীন সিলক গ্রামের অনিল কান্তি বড়ুয়ার ৫২ শতক জমি দখল করে এবং বাড়ি নির্মাণ করার পায়তারা করার সময় বাধা দিলে তার স্ত্রী ও সন্তানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ১৯ দিনের মতো জেলহাজত কাটিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা নজরুল ইসলাম তালুকদার। পুলিশ তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রিপোর্ট দেয়।’

এসব ছাড়াও সারা দেশে ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্তু সময়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

এসব পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চেয়ে চারটি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মার্কিন কংগ্রেসের সর্বসম্মত আহ্বানের আলোকে দেশের অরক্ষিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষায় এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতে সরকারকে যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরকারি দলসহ সব রাজনৈতিক দলকে দুর্বৃত্তায়নের হাত থেকে রক্ষা করতে দৃশ্যমান রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শাহাবউদ্দিন কমিশন রিপোর্টের সুপারিশগুলো অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার ও সকল রাজনৈতিক দলে সংখ্যালঘু সেল গঠন করে দ্রুততার সঙ্গে বিশেষ বিবেচনায় সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সভাপতি সাংসদ ঊষাতন তালুকদারসহ সদস্য হিউবার্ট গোমেজ, কাজল দেবনাথ, সজিব দ্রং, ড. জিনবোধি ভিক্ষু, মিলনদত্ত প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন