অ্যাশেজের সিরিজের চতুর্থ টেস্টে বৃহস্পতিবার ট্রেন্ট ব্রিজে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬০ রানে অলআউট হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া (১৮.৩ ওভার)।
প্রায় একাই অস্ট্রেলিয়াকে ধসিয়ে দিয়েছেন স্টুয়ার্ট ব্রড। ১৫ রান খরচায় তুলে নিয়েছেন ৮ উইকেট। ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেট পেলেন কোনো ইংলিশ বোলার। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ উইকেট নিতে তাঁকে খরচ করতে হয়েছে মাত্র ১৯ বল। টেস্টে দ্রুততম ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড। বাকি দুটো উইকেট মার্ক উড ও স্টিভেন ফিনের। উড আর ফিনের হয়তো আফসোসই হচ্ছে। খামোখা উইকেট দুটো নিতে গেলাম। না হলে ইনিংসে ১০ উইকেট পাওয়ার তৃতীয় ঘটনাই তো ঘটে যেত!
৬০ রানে অলআউট। এর চেয়ে কম রানে মাত্র ছয়বার অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০১১ সালেই একবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টে ৪৭ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। কিন্তু এর আগের ঘটনাটি ১৯৩৬ সালের। গত ৭৮ বছরে এ নিয়ে মাত্র দ্বিতীয় ৬০ কিংবা এর কমে অলআউট হলো অস্ট্রেলিয়া। সেটিও ম্যাচের প্রথম দিনের লাঞ্চের আগেই। প্রথম দিনে লাঞ্চের আগে অলআউট হওয়ার লজ্জা একবারই হয়েছিল তাদের, সেটিও ১৮৯৬ সালের জুনে। অর্থাৎ গত ১১৯ বছরে এমন লজ্জায় কখনোই পড়েনি অস্ট্রেলিয়া!
পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে জিততে পারলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই মর্যাদার অ্যাশেজ জিতে নিবে কুকবাহিনী। অন্যদিকে সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই মাইকেল ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়ার।
টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই চাপের মধ্যে পড়ে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। দলীয় ২৯ রানের মধ্যেই অসি শিবির হারায় মূল্যবান ছয়টি উইকেট। এক ব্রডের আগুন ঝড়ানো বোলিংয়ে দিশেহারা ক্লার্ক শিবির।
ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড আঘাত হানেন প্রথম ওভারেই। তার প্রথম শিকার ক্রিস রজার্স (০)। প্রথম ওভারের শেষ বলে ব্রড সাজঘরে ফেরত পাঠান ৬ রান করা স্টিভেন স্মিথকে। দ্বিতীয় ওভারেই শুন্য রানে মারকুটে ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারকে বিদায় করেন মার্ক উড। দুই বলে শুন্য রান করেন ওয়ার্নার।
এরপর আবারও ব্রডের আক্রমণ। নিজের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে শন মার্শকে শুন্য রানে আউট করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার দলীয় রান তখন ১৫। ক্লার্ক ও ভোজেস বিপর্যয় সামাল দেয়ার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। দলীয় ২১ রানের মাথায় আবারও ব্রড চমক। এবার তিনি বিদায় করেন ১ রান করা ভোজেসকে।
২১ রানে নেই পাঁচটি উইকেট। অ্যাশেজ সিরিজে শেষ কবে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া? হিসাব অনুযায়ী তাও প্রায় ৭৫ বছর আগে। এরপর ২১ রানের মধ্যে পাচটি উইকেটের পতন এই প্রথম।
পরের শিকারটাও ব্রডের। কুকের হাতে তালুবন্দী হন অসি অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। ১৫ বলে ক্লার্ক করেন ১০ রান। এরপর নেভিলকে আউট করে ম্যাচ জমে তোলেন ফিন।
তবে শুরুর মতো শেষটাও নিজ হাতেই করেছেন ব্রড। একে একে বিদায় করেছেন জনসন, স্টার্ক ও লিওনকে। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সর্বোচ্চ রান জনসনের ১৩। কি আশ্চর্য। এরপরই ১০ রান ক্লার্কের। বাকিরা কেউ ১০ অতিক্রম করতে পারেনি।
এদিন দ্রুততম ৫ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েছেন ব্রড। মাত্র ১৯ বলে তিনি নেন ৫ উইকেট। ইনিংস শেষে তার নামের পাশে শোভা পাচ্ছে ৮টি উইকেট। যা ব্রডের ক্যারিয়ার সেরা। ৯.৩ ওভার বল করে রান দিয়েছেন মাত্র ১৫টি। এর মধ্যে পাচটিই মেডেন। উইকেট আটটি। সত্যিই ট্রেন্ড ব্রিজ টেস্টটা স্মরণীয় করে রাখলেন ব্রড। সঙ্গে একটি করে উইকেট নিয়ে ব্রডের সঙ্গে সাফল্যের ভাগিদার ফিন ও উড।
ট্রেন্ট ব্রিজের অতীত ইতিহাস ও পরিসংখ্যানের কথা ভেবেই হয়তো টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন অ্যালেস্টার কুক। এই মাঠে সর্বশেষ ১১ টেস্টে আগে ব্যাটিং করা দল জয় পেয়েছে সাতবার। আগে ফিল্ডিং করা দল তিনটি জয় পেয়েছে এবং অপর ম্যাচটি ড্র হয়।
ইংল্যান্ড: অ্যালিস্টার কুক (অধিনায়ক), অ্যাডাম লিথ, ইয়ান বেল, জো রুট, জনি বেয়ারস্টো, বেন স্টোকস, জস বাটলার, মঈন আলি, স্টুয়ার্ট ব্রড, মার্ক উড ও স্টিভেন ফিন।
অস্ট্রেলিয়া: ডেভিড ওয়ার্নার, ক্রিস রজার্স, স্টিভেন স্মিথ, মাইকেল ক্লার্ক (অধিনায়ক), অ্যাডাম ভোজেস, মিশেল মার্শ, পিটার নেভিল, মিচেল জনসন, মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজেলউড এবং নাথান লায়ন।
স্পোর্টস ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


