নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার বাদী প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম স্ত্রীর কাছে মামলার অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিন মিয়া ১২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি শুক্রবার ৭ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া বুকস গার্ডেনে নিহত নজরুল ইসলামের বাসায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিহত নজরুল ইসলামের ছোটভাই আব্দুস সালাম।
সেলিনা ইসলাম বিউটি সেভেন মার্ডারের দায়ের করা দু’টি মামলার একটির বাদী ও নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী।
বিউটি বলেন, ‘সাত খুন মামলা থেকে রেহাই পেতে ইয়াছিন মিয়ার ১২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এ ১২ কোটি টাকা আমাদেরকেই দিতে হবে। ইয়াছিন মিয়ার ৪-৫ জন লোক আমাদের কাছে এসে ১২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছে।’
লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘গত ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল আমার স্বামী নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু আমরা ভেবেছিলাম তাদের জীবিত পাওযা যাবে। তাই আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছিলাম। ৩০ মে আমার স্বামীসহ ৭ জনের লাশ শীতলক্ষ্যায় ভেসে উঠে। তখন আমার ভাই, বোন, বাবা, দেবর ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন সবাই নদীর পাড়ে ছিলাম। আপনজন হারিয়ে আমরা শোকে কাতর ছিলাম। তখন আমরা লাশ উদ্ধার, ময়নাতদন্ত ও লাশ দাফনের কাজে নিয়োজিত ছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘নুর হোসেন, ইয়াছিন, হাসু, রাজু ইকবালের অত্যাচারে সারা সিদ্ধিরগঞ্জের বিক্ষিপ্ত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে হয়ত খুনীদের পাম্পে আগুন ও মাদক সাম্রাজ্য ধ্বংস করে। পরদিন আমার স্বামীর জানাজায় লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। এই জানাজায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগমেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ প্রমাণিত হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর মে মাসে থানা আওয়ামী লীগের সভা ডেকে ইয়াছিন মিয়াকে বহিষ্কার করে। ১৫ মাস পলাতক থেকে এখন প্রকাশ্যে এসে থানা আওয়ামী লীগের পরিচয় দিয়ে আমাদের বাবা, ভাই, দেবর, মামা শ্বশুর, ভাগিনা ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে নানারকম হুমকি দিচ্ছে আসামীরা।’
নজরুলের কর্মী অন্তর, ফাহিম, রাব্বি, জিদান ও শফিসহ ৭ জনকে তারা মারধর করেছে বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
বিউটি অভিযোগ করেন, এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামী ইয়াছিন মিয়া ও আমিনুল রাজু ১৫ মাস পরে এলাকায় ফিরে এসে আমার বাবা (নজরুলের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম), ভাই, দেবর (নজরুলের ছোট ভাই), ভাগিনা, মামা শ্বশুর ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের নামে তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।’
যাদের নামে তিনটি মামলা দেওয়া হয়েছে তারা ৭ খুন মামলার সাক্ষী। যাতে তারা সাক্ষ্য দিতে না পারে সে জন্য এ মামলা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply