অ্যাসেজে ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা এড়াতে পারল না অস্ট্রেলিয়া। ট্রেন্ট ব্রিজে ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হওয়া মাইকেল ক্লার্কের দলকে তৃতীয় দিনের শুরুতেই ইনিংস ও ৭৮ রানে হারিয়ে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করেছে ইংল্যান্ড।
এই জয়ে পাঁচ টেস্টের অ্যাশেজ সিরিজের চার ম্যাচ শেষে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। পাশাপাশি দেড় বছর আগে প্রতিপক্ষের মাঠে ৫-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার মধুর প্রতিশোধও নিল স্বাগতিকরা।
ম্যাচের তৃতীয় দিন শনিবার সকালে ৭ উইকেটে ২৪১ রান নিয়ে খেলতে নামে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংস হার এড়াতে ৯০ রান করতে হতো তাদের। কিন্তু শেষ ৩ উইকেট হারিয়ে ১২ রানের বেশি যোগ করতে পারেনি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটি।
ইনিংস পরাজয় রুখতে পারেননি লড়াই করে চলা অ্যাডাম ভোজেস। শেষ পর্যন্ত উইকেটের এক পাশ আগলেও রাখেন তিনি। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে অপরাজিত (৫১) থেকেই মাঠ ছাড়েন অভিষেক টেস্টে শতক করা এই ডান হাতি ব্যাটসম্যান।
শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়ার উইকেট তিনটির দুটি নেন আগের দিন ক্লার্ককে আউট করা মার্ক উড। অন্যটি নেন বেন স্টোকস।
আগের দিনের অপরাজিত মিচেল স্টার্ককে দিনের শুরুতেই ফিরিয়ে দিয়ে দলকে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে নেন স্টোকস। ৬ উইকেট নিতে ৩৬ রান খরচ করেন তিনি। এটাই স্টোকসের ক্যারিয়ার সেরা টেস্ট বোলিং। এর আগে একবার ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ডান হাতি এই পেসার, তবে সেবার ৯৯ রান খরচ হয়েছিল তার।
স্টোকসের আঘাতের পর দ্রুত ২ উইকেট তুলে নিয়ে বাকি কাজটুকু সেরে ফেলেন উড। এদিন অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শেষটুকু মুড়ে দিতে মাত্র ৪১ মিনিট সময় লাগে ইংলিশদের।
স্টুয়ার্ট ব্রডের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে (১৫ রানে ৮ উইকেট) প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৩ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ড তাদের একমাত্র ইনিংসে ৩৯১ রান করে।
অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটিং ব্যর্থতার অন্যতম দায় অধিনায়ক ক্লার্কের। সিরিজের প্রথম চার ম্যাচে ১৬.৭১ গড়ে মাত্র ১১৭ রান করেন তিনি। চরম এই ব্যর্থতায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ৩৪ বছর এই ক্রিকেটার ম্যাচ শেষে ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নেওয়া ব্রড।
অস্ট্রেলিয়া: প্রথম ইনিংস ৬০ (ক্লার্ক ১০, জনসন ১৩; ব্রড ৮/১৫) ও দ্বিতীয় ইনিংস ২৫৩ (রজার্স ৫২, ওয়ার্নার ৬৪, স্মিথ ৫, মার্শ ২, ক্লার্ক ১৩, ভোজেস ৫১, নেভিল ১৭, জনসন ৫, স্টার্ক ০, হেইজেলউড ০, লায়ন ৪; স্টোকস ৬/৩৬, উড ৩/৬৯, ব্রড ১/৩৬)
ইংল্যান্ড: প্রথম ইনিংস ৩৯১/৯ (ইনিংস ঘোষণা) (রুট ১৩০, বেয়ারস্টো ৭৪; স্টার্ক ৬/১১১)
ম্যাচ সেরা: স্টুয়ার্ট ব্রড



