জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমীন আর নেই। রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে শনিবার বাদ মাগরিব তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।
ফরিদা ইয়াসমীনের ভাগিনা কণ্ঠশিল্পী আগুন তার মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়ে বলেছেন, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় সপ্তাহখানেক আগে খালাকে (ফরিদা ইয়াসমীন) শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি আজ বাদ মাগরিব মৃত্যুবরণ করেছেন। আগামীকাল (রবিবার) তার মরদেহ সেগুনবাগিচার বাসায় আনা হবে।
প্রসঙ্গত, সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেন-ফরিদা ইয়াসমীন দম্পতির ২ ছেলে রয়েছে।
সাবিনা ইয়াসমিনের বড় বোন ফরিদা ইয়াসমিন ষাটের দশকে গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পান।
সাবিনা ইয়াসমিনের মেয়ে ইয়াসমিন ফায়রুজ বলেন, “উনি হাফ কোমায় ছিলেন। অনেক দিন আগে থেকেই কিডনি কাজ করছিল না, ডায়ালাইসিস চলছিল। এছাড়া থেলাসেমিয়া ছিল, একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। বিভিন্ন রকম সমস্যা ছিল উনার।”
ফরিদা ইয়াসমিনের লাশ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে জানিয়ে তার ছেলে শাহানুর বলেন, রোববার মৃতদেহ বাসায় আনা হবে। সেখানে জানাজার পর বনানী করবস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
ফরিদা ইয়াসমিনের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
১৯৪০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতার মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা ইয়াসমীন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে এক মেয়ে, নাতি নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর অন্য দুই বোন নীলুফার ইয়াসমীন ও সাবিনা ইয়াসমীন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। বেশ কয়েক বছর আগে নীলুফার ইয়াসমীন মারা গেছেন।
প্লে-ব্যাক শিল্পী হিসেবে ফরিদা ইয়াসমীন পাঁচ বছরের বেশি সময় সংগীত জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকেননি।
ষাটের দশকে অসাধারণ কয়েকটি গান গেয়ে তিনি জয় করে নিয়েছিলেন মানুষের মন। সেই জনপ্রিয় গানগুলির মধ্যে ছিল ‘ফুলের হাওয়া লাগল’, ‘তুমি জীবনে মরনে আমায় আপন করেছ’, এবং ‘সায়ান বেদার্দি মেরা দার্দ না জানে রে’। শেষ গানটি সুপারহিট উর্দু ছবি চান্দায় ব্যবহৃত হয়েছিল। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় তিনি সংগীত জগৎকে বিদায় জানান।
এক সাক্ষাৎকারে ফরিদা ইয়াসমীন বলেছিলেন, ‘আমি প্লেব্যাক করা শুরু করি বিয়ের আগে। বিয়ের পর সবকিছুই পরিবর্তিত হয়ে গেল। বাড়ির কাজে অনেক সময় কাটাতে হতো। সন্তানদের দেখাশোনা করতে হতো। আমি খুব নিয়মের মধ্যে চলতে ভালোবাসি। একজন প্লে-ব্যাক শিল্পীকে যেকোনো সময়ই গান করার জন্য স্টুডিওতে যেতে হতো। আমি সে সময়টা বের করতে পারতাম না। আমার স্বামীও (জনপ্রিয় থ্রিলার মাসুদ রানার স্রষ্টা সুসাহিত্যিক ও প্রকাশক কাজী আনোয়ার হোসেন) তখন তাঁর ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য সংগ্রাম করে চলেছিলেন। ফলে সংসার ও ক্যারিয়ারের মধ্যে আমাকে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হয়েছিল। আমি সংসারকে বেছে নিয়েছিলাম।’


