বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড নিয়েই পে স্কেল চালু হচ্ছে, তবে…

ssসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসন্তোষ ঠেকাতে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের সংশোধিত পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকেই তা অনুমোদনের জন্য পেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে। গত মঙ্গলবার ৪ আগস্ট সচিবালয়ে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়ে পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। কমিটির প্রধান ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এতে সভাপতিত্ব করেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর পরই বেতন কাঠামোটি (পে-স্কেল) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গেজেট আকারে জারি করা হবে।

এই কাঠামোতে সরকারের বিভিন্ন অধিদফতরের শীর্ষ পদে থাকা প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে ডাক্তার, প্রকৌশলীসহ অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সচিব পদমর্যাদার গ্রেড-১ দেয়া হলেও তাদের সঙ্গে সচিবদের বেতন-ভাতায় ব্যবধান রাখা হয়েছে। সচিব ও সচিব মর্যাদার এসব কর্মকর্তা এতদিন গ্রেড-১ হিসেবে বিবেচিত হলেও মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা চূড়ান্ত কাঠামোতে সচিবদের মূল বেতন পাঁচ হাজার টাকা বাড়িয়ে আলাদা গ্রেড সৃষ্টি করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যমান বেতন কাঠামোতে ১ নম্বর গ্রেডটি সচিবদের, নির্ধারিত ৪০ হাজার টাকা। ড. ফরাসউদ্দিনের বেতন ও চাকরি কমিটির সচিবদের এক নম্বর গ্রেডেই অন্তর্ভুক্ত রেখে বেতন অতিরিক্ত চার হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল। বিষয়টি আমলে নেয়া হয়েছে। আর সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাদ দেয়ার সুপারিশ ছিল ড. ফরাসউদ্দিন কমিশনের। সচিব কমিটি ওই পথ অনুসরণ করেননি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের উপসচিব পর্যায়ের ৫০ থেকে ৬০ জন কর্মকর্তাকে টাইম স্কেল দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এসব কর্মকর্তার বিষয়ে আরো যাচাই-বাছাই করে করা হবে। এ ছাড়া প্রশাসনের ২৮তম ব্যাচের ১৭৯ জন কর্মকর্তাকে সিলেকশন গ্রেড দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন কাঠামো থেকে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ায় সচিবালয়সহ সারা দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনগুলোর (নন-ক্যাডার) পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী ও বেতন পর্যালোচনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে দেখা করে তারা তাদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন।

দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা এই টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রত্যাহার করা হলে সরকারি কর্মচারী অঙ্গনে অসন্তোষ সৃষ্টিসহ যেকোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সে কারণেই পর্যায়ক্রমে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের মহাসচিব মো. রুহুল আমীন বলেন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত খুব ভালো হয়েছে। টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দিলে সচিবালয়সহ সারা দেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হতো। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার শঙ্কা ছিল।

এদিকে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি নিজামুল ইসলাম ভূইঞা মিলন জানিয়েছেন, কর্মচারীদের বাদ দিয়ে কর্মকর্তাদের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড দিলে তা সরকারে জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। এ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে।

প্রসঙ্গত, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দিয়েই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করে বেতন কমিশন পর্যালোচনা কমিটি। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মচারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়।

সরকারি চাকরির ৬৫ শতাংশই ব্লকপোস্ট রয়েছে। যাদের পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ নেই। তারাই মূলত টাইম স্কেলের সুবিধাভোগী।

টাইম স্কেল: রকারি বিধিমালায় টাইম স্কেলের ব্যাপারে বলা হয়েছে, কোনো চাকরিজীবী ১৫ বছরেও কোনো কারণে পদোন্নতি না পেলে সে ক্ষেত্রে আট বছর পর একটি, ১২ বছর পর একটি এবং ১৫ বছর পর আরো একটি করে মোট তিনটি টাইম স্কেল পাবেন। প্রতিটি টাইম স্কেল পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর বেতন স্কেল এক ধাপ ওপরে উন্নীত হয়। এতে করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতি না পেলেও আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। ১৯৮১ সালে ক্যাডার সার্ভিসে টাইম স্কেল চালু হলেও ১৯৮৩ সালে তা নন-ক্যাডার পদে চালু হয়।

সিলেকশন গ্রেড: সিলেকশন গ্রেডের ব্যাপারে বিধিমালায় বলা হয়েছে, পদ না থাকা বা ভিন্ন কোনো কারণে একই স্কেলে সন্তোষজনকভাবে দীর্ঘদিন চাকরির পর অনেকে পদোন্নতি পান না। এ ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নির্বাচিত কিছু ব্যক্তিকে কিছু শর্তসাপেক্ষে উচ্চতর স্কেল প্রদান করা হয়। এ পদ্ধতিকে সিলেকশন গ্রেড বলা হয়। সত্তর দশকে এ পদ্ধতি চালু হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

 

আরও পড়ুন