বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে খুন করার বৈধ উপায়!

analytic_logoলিখেছেনঃ অভিনু কিবরিয়া।

প্রস্তুতিপর্ব
১। প্রথমে যাকে হত্যা করবেন, তাকে নানাভাবে সোস্যাল মিডিয়ায় ইসলামবিদ্বেষি বলে চিহ্নিত করবেন।

২। ইসলাম নিয়ে সে কখনো কিছু লিখে থাকলে তো কথাই নেই, না লিখলেও ফেসবুক বা ব্লগে তার নামে ছবিসহ ভুয়া আইডি খুলে, ইসলামবিদ্বেষি বিভিন্ন কথা লিখুন। স্ক্রিনশট নিয়ে রাখতে ভুলবেন না।

৩। নাস্তিক ব্লগার নামে একটা তালিকা করুন। তালিকায় শিকারের নাম ঢুকিয়ে দিন। তালিকাটি সোস্যাল মিডিয়ায় যথাসম্ভব ছড়িয়ে দিন।

৪। শিকারকে কয়েকদিন ফলো করে বাসার ঠিকানা খুঁজে নিন। মোবাইলে হুমকি দিন। শিকার যদি পুলিশের কাছে জিডি করতে যায় তবে আরো ভালো, জিডির কপিটা থানা থেকে যোগাড় করে ঠিকানাটি নিশ্চিত হয়ে নিন।

একশন পর্ব
১। আপনার ভাগ্য সহায় থাকলে, আপনাকে একশন পর্বে কিছু নাও করতে হতে পারে। প্রশাসনের নাকের ডগায় ব্যাঙের ছাতার মতো অনেক জঙ্গি গ্রুপ তৈরি হয়ে আছে। তারাই যা করার করবে।

২। যদি কেউ আপনার কাজটা করে না দেয়, তাহলে তিন-চার জন যোগাড় করে ব্রেইন ওয়াশ করুন। অভাবী, অল্পশিক্ষিত পরিবার থেকে তাদের জোগাড় করলে ভালো। ব্রেইনওয়াশ এর জন্য নেটে দেশি-বিদেশি জঙ্গি নেতাদের জ্বালাময়ী বক্তব্য ও নানা ভিডিও পাওয়া যাবে। শফি হুজুরের বক্তৃতা দিয়েও কাজ হতে পারে।

৩। রিক্রুট করা ব্রেইনওয়াশড ছেলেপেলেদের হাতে চাপাতি, শিকারের ঠিকানা আর কিছু টাকাপয়সা ধরিয়ে দিন। শুধু বলে দেবেন, কোপগুলো যেন ঘাড় বা মাথায় দেয়। রিক্রুটদের বলবেন, আশেপাশে মানুষ বা পুলিশ থাকলে কেয়ার করার দরকার নাই, শুধু হিজরাদের ব্যাপারে সাবধান করে দেবেন। ব্যস, আপনি নিশ্চিন্ত।

বৈধকরণ পর্ব
১। এই পর্বটি মনোযোগ দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। হত্যার সাথে সাথে, দায় স্বীকার করে একটা বিবৃতি মিডিয়াতে পাঠাতে পারেন। ফেসবুক, টুইটারেও বিবৃতি আপলোড দিবেন। সংগঠনের নামের সাথে আনসার শব্দটা থাকলে ভালো হয়। (আরো ভাল হয়, ব্রাকেটে আইএস, তালেবান বা আল কায়েদার শাখা কথাটি উল্লেখ করে দিলে)

২। পুরনো স্ক্রিনশটগুলো বিভিন্ন পেজ, ব্লগে শেয়ার করতে থাকুন কমপক্ষে ১৫ দিন।

৩। বিভিন্ন আইডি খুলে জায়গা বুঝে স্ট্যাটাস কমেন্ট করুন। কোথাও জিহাদি জোশে বলুন, আলহামদুলিল্লাহ, যা হইসে ভালো হইসে, সবকটা নাস্তিকরে মারতে হইব। কোথাও বলবেন, হত্যা আমিও সমর্থন করি না, কিন্তু এইসব লেখালেখি না করলেইতো ভিক্টিম হতে হইতো না। আবার আরেকটু প্রগ্রেসিভ লেভেলে বলবেন, আমিও বিচার চাই, তবে কতগুলো ব্লগার আসলে প্রগতির পথটাকে রুদ্ধ করছে, এসব ব্লগারদের আসল টার্গেট বিদেশে পলিটিকাল এসাইলাম নেওয়া।

এইভাবেই আপনার খুনটি বৈধ হয়ে যাবে। শাহবাগ, টিএসসি এলাকায় দু’একদিন চেঁচামেচি হবে, সোস্যাল মিডিয়ায় কয়েকদিন কয়েকজন নাকি কান্না কাঁদবে। সরকার ভুলেও এই ইস্যু ঘাঁটাবে না, এমনকি আপনার শিকার প্রধানমন্ত্রীর পরিচিত কেউ হলেও, তিনি চুপেচাপে শিকারের পরিবারকে শুধু স্বান্ত্বনা দিয়েই ক্ষান্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী পুত্র এই খুনের ব্যাপারে সরকারের নিস্ক্রিয় নীরবতার একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে চেষ্টা করবেন। ওলামা লীগ ব্লাসফেমি আইন চাইবে।

আপনি তারপর নিশ্চিন্তে কদিন বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী শিকার ঠিক করতে পারেন।

০ ‘ইস্টিশন’ ব্লগে অভিনু কিবরিয়া’র লেখা। ৮ আগস্ট ২০১৫ প্রকাশিত।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *