ঐতিহাসিক একটি দায়িত্ব সম্পন্ন করে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিলুপ্ত হয়ে গেল ‘ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি’। ৯ আগস্ট দুই দেশে পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
এ প্রসঙ্গে দীপ্তিমান সেন গুপ্ত আগেই বলেছেন, ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির দাবি পূরণ হয়েছে। তাই এ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করে পঞ্চগড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মোড়কে নতুন যাত্রা শুরু হবে। এ সময় তিনি নিজ নিজ দেশের আইন মেনে চলে যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে সদ্য বিলপ্ত দু’দেশের ছিটমহলবাসীদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।
দীর্ঘ প্রায় ৬ যুগ ধরে বন্দিজীবনের অবসান ঘটেছে বাংলাদেশ ও ভারতের অর্ধকোটিরও বেশি মানুষের। বন্দিজীবন থেকে মুক্তি পেতে জনমত গঠনসহ নানাভাবে উভয় দেশের সরকারের ওপর চাপ দিতে গঠিত হয়েছিল ‘ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি’। এই কমিটির সুনির্দিষ্ট একটি কাঠামো ছিল। যৌথ নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক পন্থায় করা হয় আন্দোলন সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ফসল হিসেবে তারা পান মুক্ত জীবন।
ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তের ছিটমহলের অবরুদ্ধ মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯২ সালে এই সংগঠনটি তৈরি হয়।
ফরওয়ার্ড ব্লকের শীর্ষ নেতা এবং দিনহাটা প্রয়াত বিধায়ক দীপক সেনগুপ্ত ছাড়াও তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন ফরওয়ার্ডব্লক নেতা ছিটমহল বিনিময়ের আন্দোলনকে সচল করেন। পরবর্তীতে এই আন্দোলনটি এগিয়ে নিয়ে যান একটি বেসরকারি সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা ও দীপক সেনগুপ্পের ছেলে দীপ্তিমান সেনগুপ্ত।
ছিটমহলের মানুষের চরম এই মানবিক সংকটের আন্দোলনকে জোড়াল করতে তিনি চাকরি ছাড়েন। সঙ্গে পান বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হোসেইন মহম্মদ এশরাদের ভাইপো আইনজীবি আহসান হাবিবকেও। ছিটমহলের প্রতিটি মৌজায় কমিটি গড়ে আন্দোলনে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য জয়নাল আবেদীন, সাদ্দাম হোসেন, সাদ্দাম মিয়া ছাড়াও বহু ছিটমহলবাসীকেও অন্তর্ভক্ত করা হয় আন্দোলনে। রক্তপাতহীন গান্ধীর আদর্শে সামনে যত এগিয়ে গিয়েছে আন্দোলনকারিরা ততই সফল হয়েছে।
গত ৭ জুন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিটমহল বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং পরবর্তীতে ৩১ জুলাই ছিটমহলগুলো স্ব-স্ব দেশের মূল ভূখণ্ডে মিলে যাবে। নাগরিক্ত নিশ্চিত হয়েছে সবার। ফলে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির আর প্রয়োজন নেই বলে দীপ্তিমান আগেই জানিয়েছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


