ঢাকার গুলশানের বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে অভিনেত্রী ও চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াতের চতুর্থ একক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। ‘রেলমস অব মেমোরি’ শিরোনামে এ প্রদর্শনী নিয়ে তার সঙ্গে কথা—
আয়োজিত প্রদর্শনীর অনুভূতি: এ প্রদর্শনী করতে পেরে সত্যিই অনেক ভালো লাগছে। এ অনুভূতি আসলেই সুন্দর ও অসাধারণ। সত্যি বলতে কি, শিল্পের মধ্য দিয়ে নিজের ভাবনা, চিন্তা ও কাজকে সবার সামনে তুলে ধরতে পারার অনুভূতি অনেক ভালো লাগার, অনেক বেশি প্রশান্তির।
প্রদর্শনীর বিষয়বস্তু: প্রদর্শনীতে আমার আঁকা ৩৫টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। তিন বছর ধরে আমি এ চিত্রকর্মগুলো রচনা করেছি। বিমূর্ত ধারার এ ছবিগুলোয় আমি আমার জমে থাকা স্মৃতিগুলোকে একত্র করার চেষ্টা করেছি। যে কারণে প্রদর্শনীর নামও দিয়েছি ‘রেলমস অব মেমোরি’।
আঁকার প্রস্তুতি: কী আঁকব, দৃশ্যায়ন কেমন হবে— এগুলো নিয়ে আমি কখনই কোনো চিন্তা করিনি। মন যা চেয়েছে, তাই এঁকেছি। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে খুব বেশি চিন্তাভাবনা বা পরিকল্পনা করিনি এবং খুব সচেতনভাবেই সেগুলো স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছি। তবে ছবি আঁকতে গিয়ে অনেক কিছু চিন্তা করেছি, ভেবেছি। ক্যানভাসে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যেসব পরিকল্পনার দরকার ছিল, সেগুলো অবশ্যই মাথায় ছিল।
অভিনয়, গান ও ছবি আঁকা: যখন যেটা করি, সেটা আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়েই করি। একজন শিল্পকর্মী হিসেবে আমি কর্মেই বিশ্বাস করি। যে শিল্প মাধ্যমই হোক না কেন, নিজের অনুভূতি, সময়, বাস্তবতা ও প্রত্যাশাকে তুলে ধরাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। শিল্পের এ রস আস্বাদন করেই বাকি জীবন অতিবাহিত করতে চাই।
এগিয়ে চলার প্রেরণা: সংসারই আমার প্রেরণার মূল উত্স। এ জায়গাটিই আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে, সুখী হতে মূল ভূমিকা রেখেছে। এক্ষেত্রে আমি যার সাহায্য ছাড়া কিছুই করতে পারতাম না, সে তৌকীর (তৌকীর আহমেদ)। প্রতিটি কাজেই ওর একটা সমর্থন, উত্সাহ সবসময় আমাকে সাহস জুগিয়েছে। এমন সঙ্গীর কারণেই আমার পথচলাটা এত সহজ, এত নিশ্চিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, বাংলাদেশের একজন বিবাহিত নারী হিসেবে আমি অনেক বেশি পেয়েছি। এজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
যে বার্তা দিতে চান: কী এক অদ্ভুত সময়েই না আমরা বাস করছি। একই সঙ্গে আমরা আনন্দে জীবনযাপন করছি। আবার একই সঙ্গে খুন, হত্যা, নারকীয়তার মধ্য দিয়ে সমাজকে কলুষিত করছি; যেখানে শিশুরাও সন্ত্রাসের ছোবল থেকে মুক্ত নয়। ক্রমেই বাড়তে থাকা এ অস্থিরতা নিরসনে শিল্পই প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে।
ছুরির বদলে যদি রঙ-তুলি, কলম ও সেতার হাতে তুলে দেয়া যায়, তাহলেই সবকিছু বদলে যাবে, বদলানো সম্ভব। কেননা একমাত্র শিল্পই মানুষের পশুবৃত্তিকে বিনাশ করতে সক্ষম। শিল্পই মানুষের মনকে সবকিছুকে ভালোভাবে দেখতে সাহায্য করে। এটিই আসলে এ প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। আমিও তাই এ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, সুন্দর এক পৃথিবীর জন্য এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে বার্তা দিতে চাই।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


