মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও নিহত সকল ব্লগার খুনিদের বিচারের দাবিতে রবিবার বিকেলে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচিতে বক্তারা বলেছেন, ‘ধারাবাহিক ব্লগার হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মুক্ত চিন্তার টুটিকে চেপে ধরা হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্যই এই হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। প্রতিবাদের সময় এখন নেই, এখন প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময়।’
গণজাগরণ মঞ্চের পাশাপাশি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও মিছিল করে।
রাজধানীর শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে কালো কাপড়ে জড়ানো ব্যানার দিয়ে বানানো ছোট্ট মঞ্চে ব্লগার নিলয়ের প্রতিকৃতিতে রবিবার বিকেলে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। এরপর নিহত নিলয় স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা জানায় সম্মিলতি সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জনউদ্যোগ, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র সংহতি, নিজেরা করি, মুক্তিযোদ্ধা যুব কমাণ্ড, জাগো নারী ডটকম প্রমুখ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, এটা খুব কষ্টের ব্যাপার সহযোদ্ধার লাশ কাঁধে বয়ে নিয়ে যাওয়া। আগে রাস্তায়, অফিসের বাইরে মানুষ হত্যা করা হলেও উগ্রবাদীরা এখন বাসায় ঢুকে মানুষ হত্যা করছে। শুধুমাত্র যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে দেশ গড়ার চিন্তায় লিখছেন সে সব সংস্কৃতিমনা মানুষদের বেছে বেছে হত্যা করা হচ্ছে। এ অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন, বাসায় ঢুকে মানুষ হত্যা আমাদের জন্য অশনিসংকেত। তাই এখনি সতর্ক হয়ে এ উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, এটা শুধু ব্লগার হত্যা করা নয়, এটা হল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও সভ্যতাকে হত্যা করা।
নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির যোগসাজশ রয়েছে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নবজাগরণের পর থেকেই এই অপশক্তি নানা নামে একের পর এক মুক্তচিন্তার লেখকদের, এই জাগরণের আন্দোলনকর্মীদের হত্যা করে চলেছে। এই হত্যার মিছিল হয়তো আরো দীর্ঘ হবে কিন্তু আমাদের প্রতিবাদী কলম একটুও লক্ষ্যচ্যুত হবে না। আমাদের কণ্ঠস্বর একটিবারের জন্যও কাঁপবে না।
সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু বলেন, আজকের এ শোক যেন দ্রোহে পরিণত হয়। আমরা এমন মৃত্যু আর কত দেখব। প্রত্যেক মানুষের জীবনের দায় রাষ্ট্রের-সরকারের। সরকারকেই খুনিদের খুঁজে বের করতে হবে।
শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে সন্ধ্যায় একটি শোক মিছিল বের করে মঞ্চের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে আবার শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে নিলয় হত্যার বিচারের দাবিতে রবিবার বিকেলে ঢাবির টিএসসিতে সমাবেশ করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এসময় জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোট এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ব্যানারে রবিবার দুপুরে নিলয় হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


