ছিটমহল বিনিময়ের ঐতিহাসিক একটি দায়িত্ব সম্পন্ন হওয়ার পর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিলুপ্ত হয়ে গেল ‘ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি’। রবিবার ৯ আগস্ট দুই দেশে পৃথক সভা করে এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হল। গঠিত হল নয়া সংগঠন ‘নাগরিক অধিকার সমন্বয় কমিটি’।
এদিন ভারতের কোচবিহারের দিনহাটার নৃপেন্দ্র স্মৃতি সদনে বাংলাদেশের পূর্বতন ৫১টি ছিটের বাসীন্দাদের উপস্থিতে কমিটির বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। ঠিক তেমনই পঞ্চগড়ে জেলা পরিষদ ভবনের মিলনায়তনে অনুরূপ একটি সভা থেকেও একই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ অংশের বিনিময় কমিটির নেতৃবৃন্দ।
দুই দেশই এখন থেকে এই নামেই কাজ করবে বলে সমকালকে জানিয়েছেন- দুদেশ মিলিয়ে নয়া সংগঠনের মুখ্য আহ্বায়ক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত।
তিনি বলেন, ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির দাবি পূরণ হয়েছে। তাই এ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়েছে। নিজ নিজ দেশের আইন মেনে চলে যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে এই নয়া সংগঠনটি গড়া হয়েছে। এছাড়া ভারতে চলে আসা নাগরিকদের পুনর্বাসন সহ উন্নয়নের বিভিন্ন কাজের তদারকি ও নজরদারি করা হবে এই সংগঠনের কাজ।
প্রায় ৪ ঘণ্টা সভা করে সংগঠনটির কমিটি নির্বাচন করা হয়। এতে যুগ্ম আহ্বায়ক হন বাংলাদেশ অংশের মঈনুল হক ও ভারতের সৌমেন দাস। এছাড়া আহ্বায়ক কমিটিতে রয়েছেন বাংলাদেশের মফিজার রহমান ও গোলাম মোস্তাফা, ভারতের আইনজীবী আহাসান হাবিব। মুখ্য পৃষ্টপোষক হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ ও ভারতের মোতাব্বর হোসেন।
সংগঠনটির আইনি উপদেষ্ঠা থাকছেন আইনজীবি আব্রাহাম লিঙ্কন। এছাড়াও নয়া সংগঠনের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক হয়েছেন রক্তিম দাশ।
ভারতে আগত ছিটমহলবাসীদের নিয়ে এই সংগঠনের একটি পৃথক কমিটি হয়েছে যার আহ্বায়ক হয়েছেন নাজিরগঞ্জ থেকে আগত জয়প্রকাশ রায়।
উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যেকার ছিটমহলের মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯২ সালে এই সংগঠনটি তৈরি করেন ফরওয়ার্ড ব্লকের শীর্ষ নেতা এবং দিনহাটা প্রয়াত বিধায়ক দীপক সেনগুপ্ত। পরবর্তীতে এই আন্দোলনটি এগিয়ে নিয়ে যান একটি বেসরকারি সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা ও দীপক সেনগুপ্তের ছেলে দীপ্তিমান সেনগুপ্ত।
ছিটমহলের মানুষের চরম এই মানবিক সংকটের আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি চাকরি ছাড়েন। উভয় দেশের প্রতিটি ছিটমহলের কমিটি গড়ে আন্দোলনে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।
সৌজন্যে: রক্তিম দাশ
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


