‘চিকিৎসার জন্য’ দুই-একদিনের মধ্যে লন্ডনে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন সোমবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ খবরটি জানিয়েছেন। দলের একাধিক সূত্র বলছে, চিকিৎসার জন্য গেলেও দেশের রাজনীতির পরবর্তী ফয়সালা নিয়ে কথা হবে বহু বছর ধরে অবস্থানরত পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে।
সংবাদ সম্মেলনে রিপন বলেন, চেয়ারপারসন চিকিৎসা গ্রহণের জন্য যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন। সম্ভবত কাল বা পরশু তিনি রওনা হবেন। এটা নির্ভর করছে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ওপর। এটা ১১, ১২ অথবা ১৩ তারিখ হতে পারে।
লন্ডনে বেগম জিয়া কতোদিন থাকবেন-সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে রিপন বলেন, সেখানে দিন দশেক থাকতে পারেন। উনার (খালেদা জিয়া) ডাক্তারকে দুই বার দেখাতে হবে। সেই হিসেবে সাপ্তাহখানেক অথবা সর্বোচ্চ ১০ দিন তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করবেন।
তবে খালেদা কোন সমস্যার জন্য চিকিৎসা নেবেন সে বিষয়ে রিপন কিছু না বললেও বিএনপির একাধিক নেতা এ প্রশ্নে চোখের চিকিৎসার কথা বলেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা ইতোমধ্যে তার চোখের চিকিৎসার কথা বলে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট ও জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার বিচারকের কাছে বিদেশে যাওয়ার অনুমতিও চেয়েছেন।
যদিও এটাকে ব্যক্তিগত সফর বলা হচ্ছে। কিন্তু সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের সাথে মূলত রাজনৈতিক আলোচনার জন্যই লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া।
সূত্র আরো জানায়, আলোচনায় ব্যক্তিগত সফর হলেও এই সফর রাজনৈতিক গুরুত্ব পাবে। দল পুনর্গঠনের পাশাপাশি খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রীকে দলের নেতৃত্বে আনার বিষয়ে এবং বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এছাড়া যুক্তরাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে খালেদা জিয়ার দেখা হতে পারেন। এছাড়া বাঙালি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ রাজনীতিকদের সঙ্গেও তার দেখা হতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাজ্য সফরে বিএনপি চেয়ারপারসন সে দেশের কোনো রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কি না- জানতে চাইলে সংবাদ ব্রিফিংয়ে রিপন বলেন, “তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনবার, দুই বার সংসদে বিরোধীদলের নেত্রী ছিলেন। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান তিনি। সুতরাং যে দেশে সফর করবেন, সেদেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপার থাকে, সৌজন্য সাক্ষাতের ব্যাপার থাকে, থাকতে পারে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।”
২০০৬ সালের শেষ দিকে ক্ষমতা ছাড়ার পর যুক্তরাজ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় সফর এটি। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার আগে বড় ছেলে তারেককে দেখতে লন্ডনে গিয়েছিলেন তিনি।
বিএনপি নেতারা জানান, খালেদা জিয়া গতবছর ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গেলে তারেকও লন্ডন থেকে সেখানে গিয়েছিলেন। এরপর আর মা-ছেলের দেখা হয়নি।


