অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন সংশোধন হচ্ছে। প্রতারণা ও জালিয়াতির পাঁচটি ধারার মামলার এখতিয়ার দুদকের হাত থেকে পুলিশকে দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য আইন সংশোধনের একটি প্রস্তাবে সরকার অনুমোদন দিয়েছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘দুনীতি দমন কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১৫’ এর খসড়ায় এই নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সরকারি সম্পত্তি এবং সরকারি ও ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলার ভার দুদকের হাতেই থাকছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা।
বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারি সম্পত্তি সম্পর্কিত এবং সরকারি ও ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত প্রতারণা বা জালিয়াতি মামলা ছাড়া অন্যান্য প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলার দায়িত্ব পুলিশ পাবে।”
২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও অপরাধজনিত বিশ্বাসভঙ্গের মতো বিষয়গুলো দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধের তালিকায় ছিল। ২০০৯ সালে মুদ্রা পাচারের অভিযোগও দুদকের তফসিলে যুক্ত হয়। আর ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এক সংশোধনীতে ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯ ও ৪৭১ ধারার অপরাধ তদন্তের দায়িত্বও দুদকের ওপর বর্তায়। এই ধারাগুলোর মধ্যে প্রতারণার অভিযোগ ৪২০ ধারার অন্তর্ভুক্ত। অন্যগুলো ব্যক্তিগত অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলার ধারা।
২০১৩ সালের ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত এসব ধারার মামলাগুলোর তদন্ত করত পুলিশ। বিচার চলত হাকিম আদালতে। কিন্তু ‘ক্রিমিনাল ল’ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ অনুযায়ী দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধগুলোর বিচারের এখতিয়ার জেলা জজ আদালতের হাতে চলে যায়। আর জজ আদালতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এসব মামলার বিচারকাজে তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রতা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সাধারণ অপরাধে পুলিশ তদন্ত করে এবং এর বিচার হয় বিচারিক হাকিম আদালতে। আর দুদকের আওতাভুক্ত কোনো অপরাধ হলে তার তদন্ত তারা নিজেরাই করে; বিচার হয় বিশেষ জজ আদালতে।
“বিশেষ জজ আদালতের সংখ্যা কম হওয়ায় অসুবিধা হচ্ছিল। আইন ও বিচার বিভাগ এ অসুবিধার কথা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানিয়ে দুদক আইনের শিডিউল থেকে ওই ধারাগুলো বাদ দেওয়ার সুপারিশ করে। এর ভিত্তিতে এই খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।”
সচিব বলেন, সংশোধিত আইন পাস হলে সরকারি সম্পত্তি সম্পর্কিত এবং সরকারি ও ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলায় দুদকই তদন্ত করবে। দুদক আইনের আওতায় তার বিচার হবে, কেননা বিষয়টি দুর্নীতি দমন সম্পর্কিত। এছাড়া অন্যান্য প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় থানায় হবে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা জানান, ঝুলে থাকা অভিযোগগুলোর মধ্যে যেগুলো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলো পুলিশে হস্তান্তর করা হবে। তবে অভিযোগকারী ইচ্ছা করলে আদালতেও আবেদন করতে পারবেন।


