ক্রমাগত দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের সব সড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই হিসাবে মহাসড়কে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার এবং ঢাকাসহ সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার গতি নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে।
নির্ধারিত এ গতিসীমার বেশি কোনো গাড়ি চললে তার বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া গাড়িতে গতিনিয়ন্ত্রক স্পিড গভর্নর বসানোর ব্যবস্থা নিতে রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে (বিআরটিএ) বলা হয়েছে।
ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটে সোমবার ১০ আগস্ট জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন।
সড়কে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে সভায় জানানো হয়। একই কারণে ১ আগস্ট থেকে ২২টি মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশাসহ তিন চাকার ছোট যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এ জন্য গাড়িতে স্পিড গভর্নর নামের একটি যন্ত্র বসানো হবে। ওই যন্ত্রে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করে দেয়া থাকবে। এ গতিসীমা অতিক্রম করে চালক গাড়ি চালাতে পারবে না। ওবায়দুল কাদের সভার এ সিদ্ধান্ত পড়ে শোনান। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর বেশি গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা সভা শেষে নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে জানান, শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ওই প্রজ্ঞাপন জারির পর বিষয়টি কার্যকর হবে। গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবটি দেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির গতিসীমা ৭০-৮০ কিলোমিটার ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪০-৫০ কিমি নির্ধারিত থাকা উচিত।
প্রস্তাবের সমর্থনে বাস মালিকদের সংগঠন ও সোহাগ পরিবহনের মালিক সোহেল তালুকদার ফারুক বলেন, গতি নিয়ন্ত্রণ করলে দুর্ঘটনা কমে আসবে। আমার পরিবহনের গাড়িগুলোতে ৮০ কিলোমিটার গতি নির্ধারণ করে দিয়েছি। এতে দুর্ঘটনার হার ৯৯ শতাংশ কমে এসেছে। এরপরই এ প্রস্তাবটি পাস হয়।
এছাড়া সভায় সড়ক নিরপত্তায় ২২টি মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধে জোরদার ব্যবস্থা নেয়া, হাইওয়ের পাশে স্লোমুভিং যানবাহনের জন্য আলাদা রো বা লেন নির্মাণ, হাইওয়ের টার্নিং পয়েন্টে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, যানবাহনের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে এক্সেল লোড কার্যকর করা, মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসানো যাবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিবহন খাতের সর্বোচ্চ এ ফোরামের সভায় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা, ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর প্রধানরা অংশ নেন।
এটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৩তম সভা। এর আগে ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সম্প্রতি দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এবার জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা, মহাসড়কে চাঁদাবাজি, চালকের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, সড়কের ত্রুটি সংশোধন, অতিরিক্ত ওজনবাহী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ, সড়কের ওপর থেকে হকার উচ্ছেদ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ, টার্মিনাল সম্প্রসারণ, কারওয়ান বাজার স্থানান্তর, পার্কিং অব্যবস্থাপনা, চালকদের লাইসেন্স প্রদানে ধীরগতি দূর করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় অন্যান্য আরও সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে ঈদুল আজহার আগে গাবতলী ইউলুপ সংস্কারের কাজ শেষ করা, মগবাজার ফ্লাইওভার সংলগ্ন সড়ক সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করা, যত্রতত্র পার্কিংয়ে জরিমানা আদায় ও শাস্তির বিধানসহ বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করা, ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো ঈদের আগে সংস্কার করা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


