বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

তমা কনস্ট্রাকশন কারও কথাই শোনে না: সাঈদ খোকন

Fly-Over-Bridgeঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণকাজে ধীর গতি নিয়ে আলোচনা করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘তমা কনস্ট্রাকশন’ এর তীব্র সমালোচনা করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তমার সঙ্গে আমি পারবো না। খোকন বলেছেন, ওদের টোন অন্যরকম; ওরা কারো কথাই শোনে না।

রাজধানীবাসীর ভোগান্তির জন্য মগবাজার ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের ধীরগতি ও অবস্থাপনার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়। ওই ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে মগবাজার-সাতরাস্তা-রামপুরা সড়কে যানজটে জনভোগান্তি বাড়াচ্ছে বলে ক্ষোভের সঙ্গে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।

ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে সোমবার ১০ আগস্ট জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৩তম সভা। এর আগে ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

রাজধানীবাসীর ভোগান্তির বিষয়টি প্রথমে উত্থাপন করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, মগবাজার ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের কারণে রাজধানীর একাংশ প্যারালাইজড (অচল) হয়ে গেছে। সড়কের ওপর নির্মাণ কাজ চলায় শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, রামপুরা, সাতরাস্তাসহ আশপাশ এলাকায় প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিশেষ করে সকালে অফিসমুখী মানুষ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি এমআরটির কাজ শুরু হচ্ছে। সড়কের নিচে থাকায় ইউটিলিটি সার্ভিসগুলোর রাস্তার একপাশে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে ভিআইপি সড়কের একসাইডে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। রাজধানীর যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে যাবে। মগবাজার ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর এমআরটির কাজ শুরুর পরামর্শ দেন তিনি।

ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ কবে শেষ হবে- সড়কমন্ত্রীর এমন প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডির কর্মকর্তা সভায় জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে মগবাজার ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ একাংশ শেষ হবে। বাকি অংশ আগামী বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ক্ষোভ প্রকশ করে বলেন, আপনারা তো হবে হবে বলেন কিন্তু নির্মাণ কাজ তো হচ্ছে না। এ ফ্লাইওভারের কারণে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। ভোগান্তির শিকার মানুষেরা সরকারকে গালি দেয়। এজন্য আপনাদের অবহেলা ও গাফিলতি দায়ী।

এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ফ্লাইওভার নির্মাকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (তমা কনস্ট্রাকশন) অনেক ক্ষমতাসম্পন্ন। দ্রুত কাজ শেষ করার বিষয়ে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তাদের কথা বলার ধরন (টোন) অন্যরকম। তারা কারও কথাই শুনে না। ওই কোম্পানি ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারবে কি না তা নিয়ে আমি সন্দিহান।

ওই ঠিকাদারের সঙ্গে বসার জন্য ওবায়দুল কাদেরকে অনুরোধ জানিয়ে মেয়র বলেন, আপনি (মন্ত্রী) তাদের সওঙ্গ কথা বলুন। তারা আমাদের কথা শুনেন না। এলজিআরডির কর্মকর্তাদের কথা শুনবেই না।

বিষয়টির সঙ্গে একমত পোষণ করে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমিও পারব না। আপনাকে (ওবায়দুল কাদের) সমাধান করতে হবে। তাদের ডাকেন। তারা যদি কাজ না করে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন।

জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বুধবার সকালে তাদের সঙ্গে বসবো। মগবাজার-মৌচাক-রামপুরার সড়ক চলাচলের উপযোগী করতে হবে। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র আমার সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন