বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রশাসন বনাম বিশেষায়িত বিভাগঃ প্রসঙ্গ বাংলাদেশ

Rashed-Islamরাশেদ ইসলাম।
প্রশাসনের কেন্দ্র বিন্দু সচিবালয়। সচিবালয় থেকেই সরকারের যাবতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন, নীতিপ্রনয়ন, সম্পদ আহরন, বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষা এবং এসব নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী মাঠ পর্যায়ের বিশেষায়িত বিভিন্ন বিভাগ যেমনঃ শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, কৃষি বিভাগ ও অন্যান্য বিভাগের কার্যক্রম মনিটর করা হয়। মন্ত্রনালয়/সচিবালয় হলো নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা (Regulating Body)।

সচিবালয়ে প্রশাসনিক সর্বোচ্চ পদ সচিব।শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সচিব পদেবিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের লোক কেন পদায়িত হবেন এ নিয়ে প্রায়শই পত্র পত্রিকায় ইতিবাচক ও নেতিবাচক অনেক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জনৈক ব্যক্তির একটি পোষ্টকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হতে দেখা গেছে। প্রচলিত ব্যবস্থার বিপক্ষে যারা কথা বলেন তাদের যুক্তি হলো আমলারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য,, কৃষি, প্রকেৌশল এসবের কি বোঝে। এসব তো Technical বিষয়। সুতরাং মন্ত্রনালয়ে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের লোককেই নিয়োগ দিতে হবে। অর্থ্যাৎ শিক্ষক হবেন শিক্ষা সচিব, ডাক্তার হবেন স্বাস্থ্য সচিব, প্রকেৌশলী হবে সড়ক ও জনপথের সচিব ইত্যাদি ইত্যাদি।

এ পক্ষের মতাধারীদের আরেকটি যুক্তি হলোবাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে একই পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে প্রশাসন ক্যাডারের লোক সচিব পর্যন্ত পদোন্নতি পান কিন্তু অন্যান্য ক্যাডারের ক্ষেত্রে সচিব হওয়ার কোন সুযোগ না থাকায় সংবিধান স্বীকৃত সমতার নীতি অর্থ্যাৎ ২৯ অনুচ্ছেদে লঙ্ঘিত হয়েছে।

উপসচিব পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা প্রশাসন ক্যাডার ৭৫% এবং অন্যান্য সকল ক্যাডার ২৫% ব্যবস্থারও তারা বিরোধিতা করেন, এমনকি সংক্ষুদ্ধ হয়ে খাদ্য ও কর ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তা প্রতিকার চেয়ে ভিন্ন ভিন্ন রীট মামলা দায়ের করেন যার নং ৩৯৩,৩৯৪,১৭০৭, ১৭০৮, ২২৩৭/২০০১। ২০০২ সালে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রায় রীটকারীদের পক্ষে যায়। পরবর্তীতে সরকারপক্ষ Civil appeal nos 294-98 of 2003 দায়ের করলে দীর্ঘ পর্যালোচনা করে ২৪ মে, ২০১০ সালে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বেফুল বেঞ্চ হাইকোর্ট বিভাগের রায় রদ ও রহিত (set-aside)করে।

মহামান্য সুপ্রীমকোর্ট যে সব বিবেচনায় হাইকোর্ট বিভাগের ১৩-০২-২০০২ তারিখের রায়টি রদ ও রহিত করেন তার মধ্যেই নিহিত আছে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলির উত্তরঃ

১। কেন সকল মন্ত্রনালয়ের সচিব পদে প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যই পদায়িত হবেন।
২। পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা কেন যৌক্তিক।
৩। কেন কোটা ব্যবস্থায় সমতার নীতি লঙ্ঘিত হয় নি।

মাঠ প্রশাসনের বাস্তবতা ও উল্লিখিত আপিল মামলার ৭৬ পৃষ্ঠার আদেশে মহামান্য বিচারপতি মহোদয়গনের পর্যবেক্ষন নিচে তুলা ধরা হলোঃ

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের এন্ট্রি পোস্ট সহকারী কমিশনার/সহকারী সচিব। এই পদের স্বীকৃত পদ সোপান হলো সিনিয়র সহকারী কমিশনার, সিনিয়র সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব। অপরাপর ক্যাডারের পদ সোপানে (hierarchy)তে কোথাও উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদ নাই। অর্থ্যাৎ পদ সোপান মেনেই তাঁরা পছন্দক্রম ঠিক করেছেন এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে চাকুরীতে যোগদান করেছেন। সুতরাং পরবর্তীতে উপসচিব পুলে আত্মীকরন (merge)হওয়া ছাড়া সচিবালয়ে পদায়নের কোন সুযোগ তাদের নাই।

মন্ত্রনালয় /সচিবালয়ে কারিগরী কোন বিষয় নাই। নিয়োগ, বদলী, পদোন্নতি, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহন, নীতিমালা প্রনয়ন, বাজেট প্রনয়ন, ক্রয় বিক্রয়, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, মাঠ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা, উন্নয়ন কাজের তদারকি, আন্তঃমন্ত্রনালয় সম্পর্ক রক্ষা, মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্ট আইনের খসড়া প্রণয়ন করে থাকে। এগুলোর সাথে বিশেষায়িত জ্ঞানের কোন সম্পর্ক নাই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা মন্ত্রনালেয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক এসব কাজের সাথে শিক্ষক, ডাক্তার কিংবা প্রকৌশলীর কারিগরী জ্ঞান কোনভাবেই সম্পর্কযুক্ত নয়। বরং প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যরাই এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের অধিকারী, কারন চাকুরীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যরা উপরিউল্লিখিত কাজগুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

সহকারী কমিশনারগন যোগদানের শুরু থেকেই জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসাবে জেলা পর্যায়ের সকল নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। অনেক বিভাগের পদোন্নতির সাথে জেলা প্রশাসক জড়িত। সরকার নতুন কোন বিষয়ে আইন প্রনয়ন কিংবা কোন আইন, নীতিমালা সংশোধন করতে জেলা প্রশাসকের মতামত নেন।

মাঠ পর্যায়ের সচিবালয় হলো জেলা প্রশাসন সেহেতু অন্যান্য সকল বিভাগের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমেকাজ করার/কাজ করিয়ে নেয়ার অভিজ্ঞতা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আছে। এছাড়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান প্রক্রিয়ার সাথে জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার কারনে বাংলাদেশে প্রচলিত আইন সম্পর্কে সম্যক ধারনা প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদেরই আছে। সর্বোপরি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে যোগাযোগ প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের থাকায় তাদের চিন্তা ভাবনার ব্যপ্তি ও সামগ্রীকতা লক্ষ্য করা যায় যা মন্ত্রনালয় ও আন্ত মন্ত্রনালয় কর্মকান্ড পরিচালনায় খুবই জরুরী। প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা পদায়নই যৌক্তিক।

মন্ত্রনালয়/সচিবালয়ে যদি সংশ্লিষ্ট ক্যাডার কর্মকর্তা পদায়ন করা হয় তাহলে মাঠ পর্যায়ে তাদের সমন্বয়কারী কে হবে। মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে মন্ত্রনালয় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ক্যাডার কর্মকর্তার পদায়ন হলে সমন্বয় অসম্ভব। কারন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ, প্রকৌশল সবাই তো স্বতন্ত্র্য ক্যাডার। কে কার সভাপতিত্বে সভা করবে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অপর বিভাগের সাহায্যের প্রয়োজন হলে কিভাবে নিবে? রাষ্ট্রের যেসকল কর্ম প্রক্রিয়ায় সকল বিভাগ জড়িত যেমনঃ দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নির্বাচন, সেগুলো কার নেতৃত্বে হবে। বিশেষায়িত জ্ঞানের প্রয়োজন মাঠ পর্যায়ে/ বাস্তবায়নপর্যায়ে, সিদ্ধান্তগ্রহন পর্যায়ে যে বিশেষায়িত মতামত প্রয়োজন তা Technical Committee এর মাধ্যমে নেয়া হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গনতান্ত্রিক দেশ সেখানেSpecialisedকোন ক্যাডারকে মন্ত্রনালয়ে পদায়ন করা হয় না। পাকিস্তানেও বিশেষায়িত কোন ক্যাডারকে মন্ত্রনালয়ে পদায়ন করা হয় না। আমাদের উপমহাদেশে প্রশাসন ক্যাডারের উৎপত্তিই সচিবালয়কে কেন্দ্র করে। ব্রিটিশ ভারতে ব্রিটিশ রাজ্যের সাথে যোগাযোগ রক্ষার্থে যারা লেখালেখি করত তাদের বলা হতো Writer। Writer রা যেখানে বসে লেখালেখি করত তার নাম ছিল Writers Building যা এখনও কলিকাতা সরকারের সচিবালয়। ঐতিহাসিক এ প্রেক্ষাপট আমাদের স্বরন করিয়ে দেয় সচিবালয়ে বিশেষায়িত ক্যাডারের কর্মকর্তার পদায়নের কোন সুযোগ নাই।

মহামান্য সুপ্রীমকোর্ট হাইকোর্ট বিভাগের রায় রদ ও রহিত করার পূর্বে বৃটিশ ও পাকিস্তান আমলে civil service এর ইতিহাস পর্যালোচনা করে রায়ের ২৪ নং পৃষ্ঠায় মন্তব্য করেন” তদানিন্তন পাকিস্তানের প্রাথমিক সময় হইতেই উচ্চতর পদ সমূহের জন্য কোটা পদ্ধতি বিদ্যমান, কেন্দ্রিয় বা প্রাদেশিক অন্য কোন সার্ভিসের কোন সদস্যকে superior প্রশাসনিক পদে সাধারনভাবে নিয়োগ বা পদায়নের কোন সুযোগ ছিল না”

কেন্দ্রিয় বা প্রদেশিক প্রশাসনিকক্যাডার ব্যতিরেকে কেন্দ্রে ও প্রদেশগুলিতে বহুসংখ্যক Functional Service ও Specialist Service ছিল, কিন্তু কখনোই কোন superiorপ্রশাসনিক পদে অন্তর্ভূক্তির সুযোগ ছিল না। উপসচিব পদটি Superior Post এর অন্তর্ভূক্ত ছিল।

‍‍‍‍‍‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌“রায়ের ৬৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে” শতাব্দিকাল পূর্ব হইতেই অবিভক্ত বৃটিশ ভারতের প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের সকল উচ্চতর পদে ICS or IPS ক্যাডার হইতে কর্মকর্তাগন নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রাপ্ত হইতেন।”উল্লেখ্য যে, তাঁরা সকলেই প্রশাসনিক ক্যাডারের সদস্য ছিলেন।

“পাকিস্তান আমলেও প্রায় একই পদ্ধতি বিরাজমান ছিল, উচ্চতর পদের ২/৩ অংশ পদে CSP কর্মকর্তাগন এবং অবশিষ্ট ১/৩ অংশ পদে প্রাদেশিক প্রশাসনিক সার্ভিসের কর্মকর্তাগন নিয়োগ/পদোন্নতি প্রাপ্ত হইতেন।”

রায়ের ৭২ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে “ উল্লেখ্য যে, বৃটিশ বা পাকিস্তান আমলেও বিভিন্ন ক্যাডার ছিল কিন্তু পূর্বেই বিস্তারিত আলোচনা করা হইয়াছেযে প্রাদেশিক বা কেন্দ্রিয় সচিবালয়ে উপসচিব পদ উচ্চতর পদ হিসাবে গন্য হইত এবং উক্ত উপসচিব এবং তদুর্ধ পদগুলিতে সবসময়ই কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক প্রশাসনিক কর্মকর্তাগন পদোন্নতি পাইতেন।

রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান স্তম্ভ বা বিভাগের মধ্যে একটি হইল নির্বাহী বিভাগ, রাষ্ট্রর জাতীয় পরিষদ বা আইনসভা এবং বিচার বিভাগ এবং বিচার বিভাগ এর কার্যক্রম ব্যতিরেকে অন্য সকল প্রকার কার্যের দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের উপর বর্তায়। দেশের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান, তাহার মন্ত্রীগন সমন্বয়ে সম্পূর্ন নির্বাহী বিভাগ গঠিত। প্রতিটি মন্ত্রনালয়ে একজন সচিব/ অতিরিক্ত সচিব থাকেন । তিনি মন্ত্রনালয়ের Principal Accounts কর্মকর্তা এবং প্রধান নির্বাহী।তাহার প্রধান কার্য হইতেছে মাঠ পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করিয়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীকে তার কর্মপন্থা নির্ধারন করতঃ সিদ্ধান্ত লইতে (PolicyDecision) সহায়তা করা, কর্মপন্থা নির্ধারন হইলে মন্ত্রনালয়ের পক্ষ হইতে সেই সিদ্ধান্ত কর্মে পরিনত করিতে তত্ত্বাবধান করিবার দায়িত্ব সচিবের উপর বর্তায। এইরুপ কর্মপন্থা নির্ধারন (PolicyDecision) ও তাহা কার্যে পরিনত করিতে (Executive) সচিবের সহিত যুগ্ম সচিব ও উপসচিব সহায়ক ভুমিকা পালন করেন। এবং নির্বাহী সরকারের নির্বাহী অঙ্গঁ (Executive Arm) হিসাবে পরিচিত।

সাধারন প্রশাসন কার্য ব্যতিরেকে মাঠ পর্যায়ে সরকারের উপরোক্তভাবে গৃহিত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে বিভিন্ন পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হইতে বিভাগীয় কমিশনার পর্যন্ত সকল কর্মকর্তাগনের উপর, প্রকৃতপক্ষে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন এবং নির্বাহী বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহিত উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিবগন সেতুবন্ধনের মত কাজ করেন। এই কারনেই ব্রিটিশ আমল হইতেই সচিবালয়ের উপসচিব ও তদুর্ধ পদে সব সময়ই প্রশাসনিক কর্মকর্তাগন নিয়োগ ও পদোন্নতি পাইতেন।”

রায়ের ৭৩ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে ‍“যেহেতু PSC এর সুপারিশ পর্যায় হইতেই কর্মকর্তাগন বিভিন্ন ক্যাডারে শ্রেনীভুক্ত হইয়া যায় সেই হেতু সচিবালয়ের প্রশাসনিক উপ-সচিব পদে প্রশাসনিক কর্মকর্তাগন ব্যতিরেকে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাগনের পুনরায় নিয়োগ বা পদোন্নতি প্রাপ্ত হইবার কোন সহজাত অধিকার নাই।”

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রশাসন সার্ভিসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এটা পরিস্কার যে, সচিবালয়ের উচ্চতর পদে প্রশাসন সার্ভিসের বাইরে অন্য কোন বিশেষায়িত সার্ভিসের পদায়নের সুযোগ নাই। পাশাপাশি এটাও পরিস্কার যে, উচ্চতর পদগুলিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল বটে তবে সেটা প্রাদেশিক প্রশাসন সার্ভিসের জন্য । অন্য কোনো বিশেষায়িত বিভাগের জন্য নয়।

পদোন্নতিরর ক্ষেত্রে সমতার নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে মর্মে যে অভিযোগ করা হয়েছিল তার ৭৬ পৃষ্ঠার আদেশে ৩৮ নং পৃষ্ঠা থেকে ৭২ নং পৃষ্ঠা পর্যন্ত দেশ-বিদেশের অনেক মনীষির এতদসংক্রান্ত মন্তব্য পর্যালোচনা করে মহামান্য আদালত বলেন “সকল প্রার্থীগন PSC কর্তৃক অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অবতীর্ন হইবার সমান সুযোগ পান। তৎপর প্রতিযোগিতামুলক পরীক্ষায় তাহাদের নিজ নিজ ফলাফল ও পছন্দের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাডারের নিয়োগ প্রাপ্তির সুযোগ পান। লক্ষনীয় যে যদিও সকল প্রার্থী একই পরীক্ষায় অবতীর্ন হইতেছেন কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল ও নিজ নিজ পছন্দের কারনে বিভিনা ক্যাডারে পৃথক শ্রেনীভুক্ত হইয়া যাইতেছেন, কিন্তু যেহেতু এই শ্রেনীভুক্তকরন সার্বজনীন পরীক্ষা ও নিজ নিজ পছন্দের কারনে হইতেছে সেই হেতু উক্ত শ্রেনীভুক্তকরন যৌক্তিক এবং ইহার যথাযুক্ত ভিত্তি- নিকষ (rational basis)রহিয়াছে যাহা সংবিধানের ২৯ নং অনুচ্ছেদের শর্ত পূরন করে।”

সংক্ষেপে বলা যায়, মন্রনালয়ে উপসচিব বা তদুর্ধ্ব পদে প্রশাসন ব্যতিত অন্য কোন বিশেষায়িত ক্যাডার কর্মকর্তার পোস্টিং অযৌক্তিক ও অন্যায্য, প্রশাসনিক সকল পদে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পোস্টিংপাওয়া সহজাত অধিকার। উপসচিব পদন্নোতির অন্যান্য ক্যাডারের জন্য ২৫% কোটা বিদ্যমান থাকায় ইহাতে বরঞ্চ ২৫% পদে প্রশাসনিক ক্যাডারের কর্মকর্তাগন পদোন্নতি হইতে বঞ্চিতহইয়াছেন এবং সাংবিধানিক অধিকার equality of oppartunityখর্বহইয়াছে। প্রশাসনে পদোন্নতি বঞ্চনা রোধে তাই বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কার জরুরী।

রাশেদ ইসলাম: বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে কর্মরত।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমে প্রকাশিত স্বপ্রণোদিত মতামত। 

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *